তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো বট বাহিনী পরিচালনা করে না। এ কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে বট ব্যবহারের তথ্য তুলনামূলকভাবে কম। অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এর সম্পূরক প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো বট বাহিনী চালায় না। যার কারণে বিএনপির ছয় মাসের ৬০টি। অন্যান্য দলের যেই তথ্য দেওয়া হয়েছে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা নিরপেক্ষভাবে করি এবং ফ্যাক্ট চেকিংয়ের জন্য শুধু ম্যানুয়াল নয়, আমরা অটোমেটেডভাবে ফ্যাক্ট চেকিং করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। অচিরেই এই বিষয়ে আমরা সংসদকে অবহিত করতে পারব বলে আশা করি।
এর আগে বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপানো অপতথ্য বা বিভ্রান্তিমূলক নিউজের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র অভিযোগ করা যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রিন্ট মিডিয়া যারা চালায়, তারা অনলাইন মিডিয়ার দিকে আক্রমণ করে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ালেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। যেহেতু কেবল প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপানোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, এই বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিল যেটি রয়েছে, সেটিকে যুগোপযোগী করা হবে কি না? এবং অনলাইন ভার্সনে কাউকে যদি ব্যক্তি আক্রমণ করা হয়, যেমন আমি এই সংসদে বসুন্ধরা মিডিয়ার বিরুদ্ধে তথ্যমূলক কথা বলার পরে ৪৮ ঘণ্টায় আমার বিরুদ্ধে ১০৯টি উদ্দেশ্যমূলক নিউজ করানো হয়েছে। এখন প্রেস কাউন্সিলে সেটি নিয়ে অভিযোগ দেওয়া যায়নি। কারণ এগুলো যেহেতু প্রিন্ট মিডিয়ায় আসেনি। আজকে আপনার কাছে প্রশ্ন, বিরোধী দলকে টার্গেট করে এভাবে যে অপতথ্য সবসময় করে যাওয়া হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা প্রেস কাউন্সিলে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি এবং এই আইনটি সংশোধন করা হবে কি না।
জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিস্তারিত বলতে গেলে একটি নোটিশের প্রয়োজন। তারপরও আমি একটু বলতে চাই, যদি শুধু বিরোধীদলীয় সদস্যদের আক্রমণ করা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের মা-বোনদেরকেও আক্রমণ করা হচ্ছে। আক্রমণ করা হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি দলের সদস্যদেরকেও এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে আক্রমণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। প্রেস কাউন্সিল আমরা রিভ্যাম্প করছি। সুন্দরভাবে প্রেস কাউন্সিল গঠন করা হবে এবং আপনি যেই অনলাইনের কথা বলেছেন, সেটাও আমাদের বিবেচনার মধ্যে আছে। আমরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে।
অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশে মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেই বিষয়ে অন্যান্য দেশে কী কী পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করেছে, সেই বিষয়ে আমরা বিবেচনা করছি। আমরা এই বিষয়ে কনসালটেশন করছি। আমরা একটি সুন্দর কাঠামো দাঁড় করাতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ














