আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তির অনলাইন আবেদন। ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তির আবেদন করা যাবে। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে। চট্টগ্রামের শিক্ষা বোর্ডের অধীন থাকা পাঁচ জেলায় ২৯৮টি কলেজে আসন রয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজারের মত। তবে এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের আসন খালি থাকবে ৯২ হাজার ৫৪৭টি। তবে বিগত বছরের তথ্যে দেখা যায়, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি অংশ চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে কলেজে ভর্তি হয় না। বিগত বছরের ভর্তির তথ্য পর্যালোচনা করে কিছু কলেজে আসন কমানো হবে বলে জানান বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী।
জানা যায়, ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৮৭ জন শিক্ষার্থী। তবে ওইবছর চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে কলেজে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৭৩১ জন। পাসের তুলনায় ৯ হাজার ৩৫৬ জন শিক্ষার্থী কলেজে কম ভর্তি হয়েছেন। ওই বছর চার দফা আবেদন নিয়ে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করেও চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কলেজগুলোতে ৬৪ হাজারের বেশি আসন খালি ছিল। অন্যদিকে, গতবছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন শিক্ষার্থী। ওই বছরও পাস হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ চট্টগ্রাম বোর্ডের কলেজে ভর্তি হয়নি। তবে কেন ভর্তি কম হয়, তার সঠিক ব্যাখ্যা জানা নেই সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ শাখার তথ্য মতে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি রয়েছে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মোট আসনের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজারই চট্টগ্রাম জেলায়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম নগরের কলেজগুলোতেই আসনসংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।
জানা যায়, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অধিকাংশেরই আগ্রহ থাকে নগরের সরকারি কলেজগুলোতে। গতবছরের তথ্যমতে নগরের ৮টি সরকারি কলেজে মোট আসন রয়েছে ১০ হাজার ১০০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩ হাজার ৫৯০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩ হাজার ৭৭০টি এবং মানবিক বিভাগের আসন সংখ্যা ২ হাজার ৭৪০টি।
৮ সরকারি কোন কলেজে কত আসন:
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৬০টি এবং মানবিক বিভাগে ৩৮০টি। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৭২৫টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৬০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৬১৫টি এবং মানবিক বিভাগে ৪৫০টি। সরকারি কমার্স কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯৭০ আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দুই শিফটে (দিবা ও নৈশ) মোট আসন সংখ্যা ২ হাজার ১৮০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে (দিবা) ৬৬০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দিবা ও নৈশ শাখায় ৩৮০টি করে আসন রয়েছে। এছাড়া, মানবিক বিভাগের দিবা ও নৈশ শাখায় ৩৮০টি করে আসন রয়েছে।
এছাড়া, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪০০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫০০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৫০০টি এবং মানবিক বিভাগে ৪০০টি আসন রয়েছে। বাকলিয়া সরকারি কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৫টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৬০টি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৫২৫টি এবং মানবিক বিভাগে ৪৫০টি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজে মোট আসন সংখ্যা ৩০০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২০০ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০০টি আসন রয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৫০টি। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৫০টি, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখায় ৩০০টি করে আসন আসন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, বিগত বছরের ভর্তির তথ্য পর্যালোচনা করে কিছু কলেজে আসন কমানো হবে। বিগত সময়ে অনেক কলেজে অতিরিক্ত আসন বাড়ানো হয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষ নেই। এমন এমন কলেজেও আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমরা এমন কলেজের তালিকা করছি। যেসব কলেজের সক্ষমতা নেই, আমরা সেসব কলেজের আসন সংখ্যা কমিয়ে দিব।
২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তির আবেদন করা যাবে। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
গত ২৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করে। নীতিমালা অনুযায়ী বিগত বছরের ন্যায় ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।
অনলাইনে আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (xiclassadmission.gov.bd) -তে গিয়ে নির্দেশিকা অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। নির্বাচনের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
এসএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা শিক্ষার্থীদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাদশে ভর্তির আবেদন করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তিত হলে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আবেদন এবং পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। একই সময়ে পুনর্মূল্যায়নে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সব শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।
পূর্বকোণ/ইবনুর

















