চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদলতে মামলা

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

অনলাইন ডেস্ক

১৬ জুলাই, ২০২৬ | ৫:২৩ অপরাহ্ণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মানবাধিকার সংগঠন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকদের সংবিধানস্বীকৃত মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।

বুধবার ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, প্রশাসনের ২০২৫ সালের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিন-সম্পর্কিত অধিকার আন্দোলনের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে মার্কিন নাগরিকরা তাদের পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করতে এবং সংবিধানসম্মত নানা কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কাজ করা ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ডেমোক্রেসি ইন দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাও’-এর নির্বাহী পরিচালক ওমর শাকির বলেন, মানবাধিকারকর্মীদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই মামলায় নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠন ‘ট্যাক্সপেয়ার অ্যালায়েন্স এগেইনস্ট জেনোসাইড’-এর সঙ্গে ‘ডেমোক্রেসি ইন দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাও’ও যুক্ত হয়েছে।

মামলার ৪৩ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই সংগঠনই অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জমা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিল। পাশাপাশি গবেষণা প্রকাশ, সম্মেলন আয়োজন এবং মার্কিন নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তিনটি ফিলিস্তিনি বেসরকারি সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের সঙ্গেও তারা কাজ করেছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব কার্যক্রমই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী বাক্‌স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতার সুরক্ষার আওতায় পড়ে। তবে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের আওতায় সংশ্লিষ্ট মার্কিন নাগরিকরা ফৌজদারি মামলা ও দেওয়ানি জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার বক্তব্য দেওয়ার দুই দিনের মাথায় এই মামলা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনবিশেষজ্ঞও মামলার প্রথম সংশোধনীসংক্রান্ত দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী আকিলা রাধাকৃষ্ণান বলেন, আইসিসিকে পরামর্শ দেওয়ার কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ায় তিনি আগেই ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং বিশ্বজুড়ে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। ওই আইনে অবাণিজ্যিক ব্যক্তিগত যোগাযোগকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, শাসন বিভাগকে যদি এভাবে সাংবিধানিক ও আইনি সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যেকোনো ভিন্নমত দমনে একই আইন ব্যবহার করা হতে পারে।

এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিচালক ব্র্যাড স্মিথকে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ বলেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নিধনের অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসন যে অসাধারণ ক্ষমতা ব্যবহার করছে, তা উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে সহায়তা করার কারণে মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়া স্পষ্টতই অসাংবিধানিক।

সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান

পূর্বকোণ/রাকিব

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট