চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

নকল পা সংযোজন ও বিকৃত মুখে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন মোজতবার

অনলাইন ডেস্ক

২৪ এপ্রিল, ২০২৬ | ২:০২ অপরাহ্ণ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে ভবিষ্যতে কৃত্রিম পা ব্যবহার ও প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন মোজতবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। তবে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়েছেন। বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও প্রবেশাধিকার নেই।

চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, মোজতবার একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং সেটির জন্য কৃত্রিম পা ব্যবহারের প্রয়োজন হবে। তাঁর একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা ফিরছে। তবে মুখমণ্ডল ও ঠোঁট গুরুতর দগ্ধ হওয়ায় কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে, যার জন্য ভবিষ্যতে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

এ অবস্থার মধ্যেও মোজতবা মানসিকভাবে সচেতন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নিজেকে দুর্বল দেখাতে না চাওয়ায় তিনি মৌখিক বক্তব্য দিচ্ছেন না। এর বদলে তিনি বরং লিখিত বার্তার মাধ্যমেই যোগাযোগ করছেন।

বর্তমানে মোজতবার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি নিজেও একজন হৃদ্‌রোগ সার্জন। ইসরায়েলের সম্ভাব্য নজরদারি এড়াতে দেশটির শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ বন্ধ রেখেছেন।

এদিকে, মোজতবার শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির জেনারেলদের পরামর্শেই রাষ্ট্র পরিচালনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমানে দেশটি কার্যত সামরিক নেতৃত্বের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

আইআরজিসির নেতৃত্বে থাকা আহমাদ বাহিদি, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘদর এবং প্রভাবশালী উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি—এই তিনজন বর্তমানে ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন।

অন্যদিকে, নির্বাচিত সরকার তুলনামূলকভাবে পেছনে পড়ে গেছে। সরকার এখন মূলত অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে ভিন্নমত ও একাধিক ক্ষমতাকেন্দ্র সব সময়ই বিদ্যমান থাকলেও ক্ষমতার ভারসাম্য এখন স্পষ্টভাবে সামরিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট