চট্টগ্রাম সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

পৈতৃকভিটা থাকলেও স্মৃতিচিহ্ন নেই বিপ্লবী কল্পনা দত্তের

পৈতৃকভিটা থাকলেও স্মৃতিচিহ্ন নেই বিপ্লবী কল্পনা দত্তের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ | ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের নেতা মাস্টার দা সূর্য সেনের নামের সঙ্গে যে দুজন নারীর নাম জড়িয়ে আছে তাঁদের একজন বিপ্লবী কল্পনা দত্ত। অসীম সাহস আর বীরত্বের কারণে এই মহীয়সী নারী ইতিহাসের পাতায় বেঁচে আছেন। ১৯১৩ সালের ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের তাঁতঘর নামক জায়গায় বিপ্লবী কল্পনা দত্ত জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা বিনোদবিহারী দত্ত ও মা শোভনবালা দত্ত। বিপ্লবী কল্পনা দত্তের দাদা ডা. দুর্গাদাস দত্ত ছিলেন চট্টগ্রামের একজন বিশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তি। ইংরেজ সরকার তাঁর ব্যক্তিত্বকে সম্মান দিত। তাই তাঁদের বাড়ি পুলিশের নজরের বাইরে ছিল। শৈশব থেকেই কল্পনা মানসিক দিক থেকে ব্যতিক্রমী ছিলেন।

ব্রিটিশ চলে গিয়ে পাকিস্তান আসলো, এরপর স্বাধীন বাংলাদেশ। তবে দিন আর দেশ শাসনের পালাবদলের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে বিপ্লবী কল্পনা দত্তের শ্রীপুরের পৈতৃক ভিটার আগের জৌলুস। বইপত্রে কল্পনা দত্ত ইতিহাসে স্থান পেলেও তাঁর গ্রামের বাড়িতে তাঁকে নিয়ে কোন স্মৃতিচিহ্নই নেই।

উপজেলার শ্রীপুরের তাঁতঘর এলাকার যে রাস্তাটি সোজা উত্তরে কর্ণফুলী নদীর দিকে চলে গেছে, সেই রাস্তা ধরে কিছুদূর সামনে

এগিয়ে গেলেই হাতের ডানপাশে দেখা মিলবে বিপ্লবী কল্পনা দত্ত যোশীর পৈতৃকভিটা। রাস্তার ডানপাশে ছোট্ট একটা খাল আর এই খালের উপর ছোট ছোট বাঁশ বসিয়ে পারাপারের জন্য বানানো হয়েছে ছোট্ট সাঁকো। এই সাঁকো পার হয়ে মাটিতে পা রাখতেই শুরু হবে বিপ্লবী কল্পনা দত্তের পৈতৃক জায়গা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বিপ্লবী কল্পনা দত্তের সেই পৈতৃকভিটায় একটি মাটির দ্বিতল ঘর রয়েছে। এই ঘরে বসবাস করছে একটি পরিবার।
জানা যায়, অনেক বছর আগে সরকার থেকে লিজ নিয়ে ওই পরিবারটি সেখানে বসবাস করে আসছে। তবে ওই বাড়িতে কেউ ঢুকলে তাদের এক প্রকার জবাবদিহিতায় পড়তে হয়। কেন গেছে? কি কারণে গেছে?
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কল্পনা দত্তের পরিবারের অনেক সম্পত্তি ছিল। দেশবিভাগের পর কল্পনা দত্ত ভারতে চলে যাওয়ার পর সেই সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের মতো তেমন কেউ ছিল না। তবে যে পরিবারটি সেখানে বসবাস করছে তারা সরকার থেকে জায়গা লিজ নিয়েবসবাস করে আসছে। কেউ কল্পনা দত্তকে নিয়ে কিছু করতে গেলে তাদের মনে ভয় কাজ করে যে, এসব করলে তাদের লিজ নেয়া জায়গাহয়তো হাতছাড়া হয়ে যাবে।
তারা আরো জানান, বিগত কয়েক মাস আগে প্রীতিলতা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতাসহ কয়েকজন একটা ব্যানার টাঙ্গিয়ে আসার পর সেটা ছিঁড়ে ফেলা হয়।

তবে এলাকাবাসী চান বোয়ালখালীর এই বীরকন্যার স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর পৈতৃক জায়গার কিছু অংশে বীরকন্যা কল্পনা দত্তের একটি স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা তাঁকে নিয়ে কিছু একটা করা হোক। এতে করে পরবর্তী প্রজন্ম এই অগ্নিকন্যার পৈতৃকভিটা এবং তাঁর সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে পারবে।

 

পূর্বকোণ/মিফতা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট