চট্টগ্রামে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার চার বছর পর ঘাতক স্বামীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাহমুদ উল চৌধুরী মারুফ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ দণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন, পরবর্তীতে তাকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. নাছের উদ্দিন (৫১)। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার কালিকাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার সময় তিনি পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের নেহালপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ পৌরসভার তোফায়েল আহমেদের মেয়ে জেসমিন আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় নাছেরের। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে জেসমিনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন নাছের।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে জেসমিনের পরিবার নাছেরকে দুই লাখ টাকা দেয়। কিন্তু এর দুই বছর পর, ২০২০ সালে তিনি পুনরায় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছালে ওই বছরের ২০ মে রাতে স্ত্রীকে নির্মমভাবে গলা টিপে হত্যা করেন নাছের। ঘটনার পরদিন জেসমিনের স্বজনেরা খাটের নিচে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনার পর নিহত জেসমিনের বড় ভাই মো. জহিরুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২০ জুন আদালতে আসামি নাছেরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচার শুরু হয়। মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রবিবার আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















