চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

লোহাগাড়া সংবাদদাতা

২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে।

 

রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার উপজেলার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

মামলার বাদী আমির হোসেন জানান, আমার একটি জায়গার দখল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আরমান তার ভাই ও তাদের সহযোগীরা আমার কাছে চাঁদাদাবি করে এবং আমাকে আমার ক্রয়কৃত জায়গা থেকে দখল উচ্ছেদ করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ হিসেবে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্ত করবেন।

 

মামলায় আরমান উদ্দিনের পাশাপাশি তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা জানান।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওইসময় দোকান থেকে ১২টি তিন-পাটের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা। এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবনের ওপরের তলার ভাড়াটিয়াদের কাছে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাসা তাদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়, সে কথাও বলেন আসামিরা। ঘটনার সময় বাদী প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে বসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে বলেন, তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে। আসামি আদিল চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বাদী।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। পরে মামলা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন।

 

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। অফিসিয়ালি আমার কাছে এখনো কোন নির্দেশ আসে নি।

 

অভিযুক্ত আরমান উদ্দীন বলেন, মামলায় ঘটনার যেই তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে তার অনেক আগে থেকেই আমি ও আমার ভাই আরিফ সৌদি আরবে অবস্থান করছি। আর আমি যে বাদীকে কল দিছি এমন তথ্যও দিতে পারবে না। বাদীকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না,সেও আমাকে চিনবে কি না সন্দেহ আছে।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট