চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও আধুনিক পার্ক গড়ার উদ্যোগ মেয়র শাহাদাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ | ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল এবং আধুনিক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সেনাবাহিনীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল এডমিন খলিলুল্লাহ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন এবং মেজর আনিছুর রহমান।
সভায় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দল মেয়রের সঙ্গে কালুরঘাট বিএফআইডিসি সড়কের পাশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রায় আট একর জায়গায় একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করেন। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
সভায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এতে একদিকে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মিত হলে নগরবাসী স্বল্প ব্যয়ে দেশেই উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া হাসপাতালটি চসিকের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে বলেও আলোচনা হয়।
সভায় হাসপাতালটির সম্ভাব্য কাঠামো, সুবিধা ও পরিচালন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা মেয়রের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় মেয়র দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের জনগণের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে আসতে চাইছে,এটি নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও শুভ উদ্যোগ। একজন চিকিৎসক ও চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে তিনি এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও জানান। কালুরঘাট এলাকায় হাসপাতালটি নির্মিত হলে আশপাশের বিপুলসংখ্যক মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার আওতায় আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় মেয়র নগরীর সুস্থ বিনোদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, একসময় সার্কিট হাউসের সামনে অবস্থিত শিশু পার্কটি নগরবাসীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ছিল, যা বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে। পার্কটি পুনর্নির্মাণ করে একটি আধুনিক পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হলে শিশু ও বয়স্ক সবার জন্য সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, এ পার্কে কোনো স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনা থাকবে না; এটি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। সেনাবাহিনী যদি এ প্রকল্পে ভূমি প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করে, তবে চসিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট