চট্টগ্রাম সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং-এর মালিক মো. ফরিদ।

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

কক্সবাজার সংবাদদাতা

৩ আগস্ট, ২০২৬ | ২:৪৫ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে পর্যটক সৌভিক রায় (৩১) নিহতের ঘটনায় ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’-এর মালিক মো. ফরিদকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

রবিবার (৩ আগস্ট) নিহতের বোন মেধা মৃত্তিকা রায় বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ফরিদের পাশাপাশি চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপারকে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে সৌভিক রায় কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকত এলাকায় বেড়াতে যান। সেখানে ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস’-এর মালিক মো. ফরিদের প্রলোভনে পড়ে একটি প্যারাসেইলিং রাইডে অংশ নেন তিনি। কিন্তু জরাজীর্ণ ও অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে আকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎ প্যারাসেইলিংয়ের দড়ি ছিঁড়ে গিয়ে তিনি সরাসরি সমুদ্রে আছড়ে পড়েন।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক কোনো লাইফগার্ড বা উদ্ধারকর্মী উপস্থিত না থাকায় সৌভিককে উদ্ধার করতে মারাত্মক বিলম্ব হয়। পরে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিও ফুটেজেও রাইড পরিচালনাকারীদের চরম গাফিলতি স্পষ্ট ধরা পড়েছে।

 

দুর্ঘটনার পর রবিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচকর্মী ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস’-এর মালামাল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে দরিয়ানগর এলাকায় নির্মিত তাদের অবৈধ স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, জেলা প্রশাসন থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পুরো সৈকত এলাকায় সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এদিকে কেবল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাইড বন্ধ করে প্রশাসনিক দায় এড়ানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

 

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় লাইসেন্স ছাড়া এসব ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং ব্যবসা কীভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল, সেটি বড় প্রশ্ন। সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল, সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছেন। একজন পর্যটকের জীবনের বিনিময়ে কর্মকর্তাদের এই ব্যর্থতা কোনোভাবেই ঢাকা যেতে পারে না। তাদেরও অনতিবিলম্বে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট