চট্টগ্রাম শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

বোয়ালখালীতে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার অভিযোগ

বোয়ালখালীতে সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

বোয়ালখালী সংবাদদাতা

১ আগস্ট, ২০২৬ | ৮:১২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সাপের কামড়ে জ্যোৎস্না সিংহ (৩৮) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা রাজেন্দ্র প্রসাদ চৌধুরী বাড়ির এক হাত হারানো উত্তম চৌধুরীর স্ত্রী।

 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দায় বসে চা পানের সময় তার ডান পায়ের গোড়ালির নিচে কিছু একটা কামড় দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

জ্যোৎস্নার দেবর মানস কান্তি চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালে ভর্তির পরও চিকিৎসক তাকে অ্যান্টিভেনম দেননি। পরিবারের দাবি, সময়মতো অ্যান্টিভেনম দিলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। সাপে কাটার পর স্বজনরা দংশিত স্থানে বাঁধ দিয়ে এবং সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে রাত পৌনে ৮টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজর্ষী নাগ জানান, রোগীর পায়ে সাপে কাটার সুনির্দিষ্ট কোনো চিহ্ন বা ‘ফ্যাং মার্ক’ ছিল না, তাই এটিকে ‘আননোন বাইট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ থাকলেও নিশ্চিত না হয়ে তা প্রয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা অ্যানাফাইলেকটিক শক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে রেফার করা হয়।

 

স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সদস্যরা প্রাথমিক লক্ষণ এবং ক্ষত দেখে ধারণা করছেন যে এটি পদ্ম গোখরো সাপের কামড় ছিল। তাদের মতে, এই সাপের বিষ নিউরোটক্সিন প্রকৃতির, যা অনেক সময় রক্ত পরীক্ষায় দ্রুত ধরা পড়ে না।

 

তারা আরও জানান, দংশিত স্থান সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলার কারণে অনেক সময় কামড়ের চিহ্ন অস্পষ্ট হয়ে যায়। নিউরোটক্সিনের ক্ষেত্রে চোখের পাতা ঝুলে পড়া বা শ্বাসকষ্টের মতো শারীরিক লক্ষণ দেখলেই দ্রুত অ্যান্টিভেনম দেওয়া জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

 

রোগীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে নগরের রাস্তার মাথা এলাকায় দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন চালক সোহাগ। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারাও জ্যোৎস্নার অকাল মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিঃসন্তান ও এক হাত হারানো উত্তম চৌধুরীর জন্য তার স্ত্রী জ্যোৎস্না ছিলেন একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট