কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে সাগর সুরক্ষায় সৃজিত ঝাউবন প্রতিনিয়ত উজাড় হয়ে যাচ্ছে। দুষ্ট চক্রের কবলে পড়ে উপকূলের এই সবুজ বনায়ন অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও খামখেয়ালীপনায় দিন দিন এই বন ধ্বংস হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি সাগর পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন ডেকে আনতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহপরীরদ্বীপ উপকূলীয় বনবিটের আওতাধীন সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনের পশ্চিম পাশে সৃজিত ঝাউবন থেকে স্থানীয় কিছু লোক দিনদুপুরে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। মূলত রাতের আঁধারে এবং বৃষ্টি বাদলের দিনে এই গাছ নিধনের মহোৎসব চলে। অসাধু ব্যক্তিরা গাছ কেটে লাকড়ি বানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ফলে কাটাবনিয়া অংশ এবং শাহপরীরদ্বীপ ঘোলারপাড়া এলাকার বাগানগুলো এখন হুমকির মুখে।
উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে শাহপরীরদ্বীপ বনবিটের আওতায় ১০ একর জমিতে এই বনায়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনের জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) ৮৮৪ একর জমি হস্তান্তর করা হয়, যার মধ্যে এই বনটিও অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এই ঝাউবনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব বেজার অধীনে রয়েছে।
টেকনাফ উপকূলীয় বন রেঞ্জ কর্মকর্তা বশির আহমদ খাঁন জানান, জমি হস্তান্তরের পর সেখানে বন বিভাগের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বেজা এলাকাটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে প্রবেশপথে গার্ড পোস্ট বসিয়েছে, যেখানে বন বিভাগের কর্মীদেরও প্রবেশাধিকার নেই। ফলে ঝাউবন সংরক্ষণের সম্পূর্ণ দায় এখন বেজা তথা এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে সংরক্ষিত গেট ও গার্ড পোস্ট দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ, সেখানে কীভাবে দিনদুপুরে গাছ চুরি সম্ভব ? তিনি ঝাউবন নিধনের জন্য সরাসরি ট্যুরিস্ট জোন কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন।
পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঝাউবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে টেকনাফের উপকূলীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা জরুরি ভিত্তিতে এই নিধন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ
















