টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার অন্তত ১ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত মাছের ঘের ও সবজি ক্ষেত। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫০ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
উপজেলার ছনুয়া, শেখেরখীল, বাহারছড়া, গণ্ডামারা, পুঁইছড়ি, শীলকূপ, চাম্বল, খানখানাবাদ, সাধনপুর, পুকুরিয়া এবং বাঁশখালী পৌরসভার জলদিসহ বিভিন্ন বসতবাড়িতে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করেছে । অনেক স্থানে রাস্তাঘাট ৪ থেকে ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শঙ্খ নদীর ভাঙনের ফলে বরুচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন শেল্টারটি বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এছাড়া বৈলছড়ী ইউনিয়নে অন্তত ১৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢল ও সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পুকুরিয়া ও সাধনপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাহারছড়া ও বৈলছড়ি ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রেমাশিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে জনস্বার্থে বাহারছড়া, সরল ও শেখেরখীল এলাকার বেড়িবাঁধের ৫টি পয়েন্টে কিছু অংশ কেটে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ২৪ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে আরও ১০ হাজার পরিবারের জন্য শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বেড়িবাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও সহায়তার হাত বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করছেন।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পাহাড় ধসের আশঙ্কা না থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পূর্বকোণ/সিজান/এএইচ















