কক্সবাজারের টেকনাফে পারিবারিক কলহের জেরে জান্নাতুল ফেরদৌস কাজল (২৩) নামে এক গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। মোরশেদ আলম টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকার মৃত নুরুল কবিরের ছেলে এবং ওই এলাকার চিহ্নিত অপরাধী ও ‘মোরশেদ গ্রুপ’ নামক অপহরণ চক্রের প্রধান। নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস একই ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকার আবু ছিদ্দিক ওরফে কালুর মেয়ে। এই দম্পতির সংসারে দুই নাবালক সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে মোরশেদ আলম তার স্ত্রীকে পাশবিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। নিহতের পিতা আবু ছিদ্দিক জানান, মোরশেদ তার মেয়েকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটানোর পর তার দুই হাত বেঁধে ফেলে। এরপর তার বুকে, রানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং দুই হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়।
মুমূর্ষু অবস্থায় জান্নাতুলকে প্রথমে শামলাপুর বাজারের একজন গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়, বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের পিতা অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালের চিকিৎসক তার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই ঘাতক স্বামী মোরশেদ আলম, তার বোন ও মা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের ধরতে তৎপরতা শুরু করেছে এবং দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ঘাতক মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পূর্বকোণ/সিজান
















