চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক নারীর চোখ তুলে ফেলা এবং বৃদ্ধের আঙুলের নখ কেটে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনার মূল হোতা ও ৯ মামলার আসামি মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ মাস্টারকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর ওই এলাকার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল ফকিরখীল গ্রামে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে মোস্তাফিজুর পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পুলিশ তাকে পুকুর থেকে তুলে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
মোস্তাফিজুর রহমান এলাকায় অত্যন্ত উশৃঙ্খল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, গত ২৬ মে ফকিরখীল গ্রামে স্বপন দাশ (৭০) নামে এক বৃদ্ধের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ছুরিকাঘাত করেন, যার ফলে বৃদ্ধের বাম হাতের একটি আঙুলের নখ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে তিনি এক নারীকে নির্যাতন করে তার চোখ তুলে ফেলেছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারকর্মীকে বেধড়ক মারধর এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মোস্তাফিজুর রহমান একসময় লোহাগাড়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন, যে কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মাস্টার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
সম্প্রতি তিনি ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকায় ব্যানার টাঙিয়ে নিজেকে পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। ওই ব্যানার নিয়ে কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করলে তাকেও তিনি মারতে তেড়ে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থানায় মাদকসহ বিভিন্ন আইনে সর্বমোট ৯টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২টিতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাকে খুঁজছিল।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ
















