চট্টগ্রাম শনিবার, ০২ মে, ২০২৬

সর্বশেষ:

চন্দনাইশে ৭ খালের পুনঃখনন কাজ চলছে, ব্যায় হবে আড়াই কোটি

চন্দনাইশে ৭ খালের পুনঃখনন কাজ চলছে, ব্যয় হবে আড়াই কোটি

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ

২ মে, ২০২৬ | ৩:০৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ৭টি খালের পুনঃখনন কাজ এগিয়ে চলছে। ফলে চন্দনাইশের কৃষকদের মাঝে চাষাবাদে আগ্রহ বেড়েছে। অধিক ফসল উৎপাদন করে কৃষকদের আয়ের পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে পুনর্জাগরণে রূপ দিতে যাচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচি ছিল একটি মহাপরিকল্পনা। জিয়ার দর্শন ছিল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক, অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল সুদুর প্রসারী। খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলে ব্যাপক কমসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছিল। তৃণমূল পর্যায়ে দারিদ্র বিমোচনের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিকল্পনা খাল খনন কর্মসূচি। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, অর্থনীতি, জন জীবনের প্রধান হলো কৃষি ও পানিসম্পদ। সারা দেশের ন্যায় চন্দনাইশে চলতি অর্থ বছরে যে সমস্ত খাল ভরাট হয়ে পানি চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে সে সকল খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

বিএডিসির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চলতি অর্থ বছরে ইতিমধ্যে নিশিকান্ত (যতখাল) প্রথমাংশে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ কিলোমিটার, শহীদ জিয়া (বরুমতি খাল) বরকল সড়কের উভয় পাশে চন্দনাইশ পৌর এলাকায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। অপরদিকে নিশিকান্ত (যতখাল) খালের দ্বিতীয়াংশে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার, বরুমতি খাল তথা বরমা এলাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার, কাঞ্চনাবাদে জোয়ারা রাস্তার মাথা এলাকা থেকে গুইল্যাছড়ি খালের ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার, হাশিমপুরের কলেজ গেট এলাকা থেকে মরাছড়া খাল ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ এগিয়ে চলছে।

 

এদিকে বরকল ব্রিজ এলাকায় মহেষমারা খালটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার, কানাইমাদারী তরমুজখানি খাল ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার খালের পুনঃখননের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে জানিয়েছেন বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেন।

 

উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেছেন, এ সকল খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য চাষাবাদে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। তবে শুষ্ক মৌসুমে এ সকল খালের পানিতে লবণাক্ততা থাকার কারণে চাষাবাদ ব্যহত হয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক চন্দনাইশের চাঁনখালী খালের রাবার ড্রেম ও বাধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

গত কয়েক বছর ধরে লবণাক্ততার কারণে বোরো ধানের চাষাবাদ কম হচ্ছে। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় আমন ধানের চাষ। কৃষি সামগ্রী ও পণ্যের দামের সাথে শ্রমিক মজুরি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত ধানের দাম না পাওয়ায় কৃষকেরা হতাশ। ফলে দিন দিন কৃষকেরা ধান উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কৃষকদের মধ্যে অনেকে চাল ক্রয় করে সংসারে চালের চাহিদা মেটাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে না। বিষয়টি অনুধাবন করে বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিয়ে চন্দনাইশের ৭টি খাল পুনঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট