কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোডের আবাসিক হোটেল ‘নিশীথা’ থেকে অর্জুন দাশ (৬০) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হোটেলের ৪০৮ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অর্জুন দাশ ফেনী জেলার বাসিন্দা এবং শ্রীধাম চন্দ্র দাশের ছেলে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ এপ্রিল অন্য এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিন দিনের জন্য ৪০৮ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন অর্জুন দাশ। ভাড়া নেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কক্ষের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার বিকেলে কক্ষটির সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় তীব্র দুর্গন্ধ পান হোটেলের কর্মীরা। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্ধ কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে অর্জুন দাশের বিবস্ত্র ও অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের পাশে একটি গামছা উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় দেহটিতে পচন ধরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্জুন দাশের সঙ্গে থাকা ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক এবং তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে রহস্য। পুলিশ মনে করছে, ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার নেপথ্যের কাহিনী উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন জানান, “মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের সঙ্গে থাকা রহস্যময় ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে”।
এই ঘটনায় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ





















