চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

কালবৈশাখী: মিরসরাইয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

কালবৈশাখী: মিরসরাইয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

মিরসরাই সংবাদদাতা

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ৯:২৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং গাছপালা উপড়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

হাসপাতাল ও শিক্ষা কেন্দ্রে ভোগান্তি: বিদ্যুৎ না থাকায় মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (মস্তাননগর) চিকিৎসকরা মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে রোগীদের জরুরি সেবা প্রদান করেন। হাসপাতালের ইপিআই কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, জেনারেটরটি দুই বছর ধরে নষ্ট পড়ে থাকায় এবং তেলের পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় তারা বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেননি। এছাড়া চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

 

ঝড়ে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ায় পর্যটক এক্সপ্রেস ও কর্ণফুলী এক্সপ্রেসসহ ট্রেন চলাচল প্রায় ৩০ মিনিট বন্ধ ছিল। চিনকী আস্তানা স্টেশন মাস্টার সিরাজুল ইসলাম জানান, রেললাইনের আপ ও ডাউন উভয় লেনে গাছ পড়ায় এই বিঘ্ন ঘটে, যা পরবর্তীতে লাইন মেরামত কর্মীদের সহায়তায় স্বাভাবিক করা হয়। এছাড়া গ্রামীণ সড়কেও গাছ পড়ে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

 

উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব পোলমোগরা এলাকায় প্রবাসী আবছারের ঘর এবং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কৃষক করিমের বসতবাড়ির ওপর গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মিঠাছরা ও বারইয়ারহাট কাঁচাবাজারে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেন, বাজারের সঠিক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে কোনো খুঁটি না ভাঙলেও ৩০টিরও বেশি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে, যার ফলে উপজেলার ৫০% থেকে ৫৫% এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। জোনাল অফিসের ডিজিএম হেদায়েত উল্ল্যাহ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ লাইন সচল করা সম্ভব হবে।

 

এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের বোরো ধানের ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দ্রুত তা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সবজি চাষ উঁচু এলাকায় হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট