নাফনদীতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে সামুংচিং চাকমা (৪০) নামে এক ব্যক্তি গত ৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
২২ এপ্রিল সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং উলুবনিয়া ও পালংখালী সীমান্ত এলাকায় এই নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ সামুংচিং চাকমা হোয়াইক্যং লম্বা ঘোনার উগবা চাকমার ছেলে।
নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী চামমি ইয়াউ চাকমা জানান, গত ২২ এপ্রিল সকালে সামুংচিং তার আত্মীয় ইবাচিং চাকমাকে সাথে নিয়ে নাফ নদীতে কাঁকড়া ধরতে যান। ইবাচিং ফিরে এলেও সামুংচিং আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে নাফ নদীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, মিয়ানমারের কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
সামুংচিং চাকমা ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার চার সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে বড় মেয়েটি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে এবং ছোট ছেলেটি এখনো অনেক ছোট। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী চামমি ইয়াউ চাকমা এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও জীবনধারণ নিয়ে অত্যন্ত শঙ্কিত। তিনি তার স্বামীকে জীবিত অথবা মৃত, যেভাবেই হোক ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।
স্থানীয় নেতা আলো চাকমা জানান, নিখোঁজ সামুংচিং অত্যন্ত দরিদ্র এবং অসহায় মানুষ ছিলেন। তার নিখোঁজের পর থেকে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। নিখোঁজের বিষয়টি ইতিমধ্যেই উখিয়া ও টেকনাফ থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান , সামুংচিং চাকমা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ





















