চট্টগ্রামের চন্দনাইশে স্কেভেটর দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটার সিন্ডিকেট দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। উপজেলার সর্বত্র দিন-রাত অর্ধশতাধিক চক্র আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ও পাহাড় কাটায় লিপ্ত রয়েছে। এমনকি ধানি জমির মাটি কাটতে গিয়ে বিএডিসির পানি সঞ্চালন লাইনের পাইপ পর্যন্ত কেটে ফেলেছে মাটিদস্যুরা। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর একটি স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী ভোল পাল্টে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার কাঞ্চননগর, লর্ড এলাহাবাদ, হাশিমপুর বড়পাড়া বিল, ধোপাছড়ি এবং চন্দনাইশ পৌরসভার বরুমতি খালে বাঁধ দিয়ে নির্বিচারে মাটি লুট করা হচ্ছে। চাম্বার বিলের ধানি জমি থেকে মাটি কাটতে গিয়ে ১০ ফুট গভীরে থাকা বিএডিসির সেচ প্রকল্পের পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে দস্যুরা। এছাড়া জোয়ারা, বরকল, বরমা, বলতলী ও সাতবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে ডাম্পার যোগে মাটি পাচার হচ্ছে।
কাঞ্চননগর আব্বাস পাড়া এলাকার মো. সাজ্জাদ ও গেটঘর এলাকার আবদুল্লাহ হোসাইন আক্ষেপ করে বলেন, দিনের আলোতে পাহাড় কাটা হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে শাক-সবজি ও ফলমূলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
কৃষিবিদদের মতে, জমির টপসয়েল একবার কাটা হলে সেই উর্বরতা ফিরে পেতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগে। এদিকে সড়কের ওপর মাটি পড়ে ধূলিময় হয়ে ওঠায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে পথচারীরা। ধুলার কারণে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। সড়কগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যদিও স্থানীয় সংসদ সদস্য জসিম উদ্দীন আহমেদ ঘোষণা দিয়েছিলেন চন্দনাইশে কোনো মাটিদস্যু সিন্ডিকেট থাকবে না, কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মুহূর্তে মাটিদস্যু সিন্ডিকেট বন্ধ করা না গেলে চন্দনাইশের কৃষিতে অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য পুরোপুরি বিনষ্ট হবে।
পূর্বকোণ/পিআর





















