
চট্টগ্রাম নগরীর কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে (১৭) আট তলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সন্দ্বীপ থানাধীন রহমতপুর এলাকার মো. হাফেজের ছেলে মো. রানা প্রকাশ মাইকেল রানা ও নগরীর চকবাজার থানাধীন দেওয়ান বাজার এলাকার মৃত নুর আলমের ছেলে মো. ইলিয়াস (৪৬)।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি ও বাগেলহাট জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি জানান, নিহত আশফাক কবির বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। সে নগরীর ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো।
গত ১২ এপ্রিল রবিবার বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছালে আইমন, অনিক, রানা, মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক কাছের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে গেট বন্ধ করে আটতলায় উঠে যায়। তবে হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে তারা ওপরে গিয়ে আশফাককে মারধর করে এবং একপর্যায়ে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত কলেজছাত্রের পিতার বাদী হয়ে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি থানাধীন মহামুনি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. রানা প্রকাশ মাইকেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানাধীন বড় খাজুরার হাট পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ইলিয়াস নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের চকবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/পিআর