একদিকে পাহাড়ি ঢলে ভেসে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম, আরেকদিকে তীব্র রোদে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে মানুষের। বিশ্বের এই দুই বিপরীত ছবির পেছনে একটাই নাম বারবার উঠে আসছে—এল নিনো।
দেশের সাত জেলা পানির নিচে
সরকারি হিসাবে (১১ জুলাই পর্যন্ত) চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যায় ডুবে গেছে। মৃতের সংখ্যা ৪৪, আহত ৩৯। পানিবন্দি পরিবার প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার, আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ছাড়িয়েছে ১০ লাখ। ৪ জুলাই চট্টগ্রামে শুরু হওয়া বৃষ্টি ধীরে ধীরে সিলেটের দিকেও গড়িয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোতেও নাজেহাল অবস্থা
ভারতের হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর থেকে শুরু করে মিজোরাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ—সবখানেই ভূমিধস আর সড়ক বিচ্ছিন্নতার খবর। শুধু উত্তরাখণ্ডেই বন্ধ ১১৮টি সড়ক। এরই মাঝে টাইফুন “বাভি” জাপান ও তাইওয়ানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে আছড়ে পড়েছে—আগেই সরিয়ে নেওয়া হয় ১৭ লাখের বেশি মানুষকে। তাইওয়ানে বাতিল হয়েছে হাজারের বেশি ফ্লাইট, ফিলিপাইনে প্রাণ গেছে অন্তত ১৭ জনের। পাকিস্তানও বন্যা-ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছে।
ইউরোপ পুড়ছে গরমে
কোপার্নিকাসের তথ্যমতে এবার (জুন ২০২৬) পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে রেকর্ড গরম অনুভূত হয়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়ামে তাপপ্রবাহে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, জার্মানিতেই মারা গেছেন পাঁচ হাজারের বেশি, যাদের বড় অংশের বয়স ৭৫ পেরিয়েছে। “হিট ডোম” নামের এক আটকে থাকা উচ্চচাপ বলয় এই গরমকে আরও দীর্ঘ ও তীব্র করেছে।
যোগসূত্র: এল নিনো
এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক চক্র, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর ফিরে আসে এবং ৯-১২ মাস স্থায়ী হয়। এবার জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি আরও শক্তিশালী হবে, আর প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিছু পূর্বাভাসে এমনও বলা হচ্ছে, এটি গত দেড়শ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে “সুপার এল নিনো”-তে পরিণত হতে পারে।
আগের বড় এল নিনোগুলো, যেমন (১৯৯৭, ১৯৯৮ বা ২০১৫, ২০১৬) সালের বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খরা আর খাদ্যসংকট ডেকে এনেছিল। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এবার জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।
বন্যা ও দাবদাহ
বন্যা আর দাবদাহ—দেখতে ভিন্ন হলেও এই দুই দুর্যোগের শিকড় একই জায়গায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা আর দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশে দেশে সমন্বয় বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ















