বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থা ও আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোর তীব্র ক্ষোভের মাঝে এই প্রথম প্রভাবশালী কোনো দেশ হিসেবে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব।
২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশন (এসএএফএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বর্তমান ফিফা সভাপতির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
বিবৃতিতে এসএএফএফ জানায়, ফুটবলের বৈশ্বিক ঐক্য ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাটির সামগ্রিক প্রসারে ইনফান্তিনো ও ফিফা নেতৃত্বের প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে তারা। একই সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সংকট সমাধানে সব পক্ষের উদ্বেগ খোলাখুলি বিবেচনায় নিয়ে সরাসরি সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
ফিফার একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার গোপনে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এর জেরে ইউরোপের উয়েফা, এশিয়ার এএফসি এবং উত্তর আমেরিকার কনকাকাফ সম্মিলিতভাবে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘প্রতারণা’ ও ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তোলে।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফিফা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় সৌদি ফেডারেশন এটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, বিদ্যমান বিভাজন দূর করতে বৃহত্তর আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।
৩৭ সদস্যের ফিফা কাউন্সিলে কোনো আনুষ্ঠানিক সভা না ডেকে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে মরক্কোর রাবাতে ফিফার ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ইনফান্তিনো। যেখানে সৌদি কর্মকর্তা ইয়াসের আল মিশাল ফিফা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরবর্তীতে ফিফার এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি সভাপতির প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে ফিফা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সৌদি আরব এবং দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফুটবল ও কূটনৈতিক দিক থেকে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন ইনফান্তিনো। ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সৌদি আরবের নাম চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এমনকি সম্প্রতি প্যারিসে সৌদি-সমর্থিত একটি ভিডিও গেমিং ইভেন্টেও তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী কনফেডারেশনগুলোর বিরোধিতার মুখে সৌদি আরবের এই প্রকাশ্য সমর্থন ইনফান্তিনোর টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় এক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পূর্বকোণ/রাকিব

















