চট্টগ্রাম বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

ফিফা সভাপতিকে তলব ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমি রাস্কিনের

ট্রাম্পের নির্দেশেই বালোগানের লাল কার্ড বাতিল?

ফিফা সভাপতিকে তলব ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমি রাস্কিনের

ফিফার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আঁতাতের অভিযোগ

স্পোর্টস ডেস্ক

২৮ জুলাই, ২০২৬ | ১১:৪০ অপরাহ্ণ

ফিফা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে কোনও অবৈধ লেনদেন বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটিতে তলব করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমি রাস্কিন। ৯ আগস্টের মধ্যে ফিফাকে সমস্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেমি রাস্কিন।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় আয়োজিত এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের অনেক আগে থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সখ্যতা অনেকেরই নজর কেড়েছে। ফিফার তরফ থেকে ট্রাম্পকে ‘শান্তি’ পুরস্কার দেওয়া হয়। নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে অফিস ভাড়া নেয় ফিফা। শুধু তাই নয়, লাস ভেগাসের বদলে ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টারে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। যে জায়গা পুরোপুরি পট্রাম্প ও তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

 

রাস্কিন তাঁর চিঠিতে ইনফান্তিনোকে একটি তালিকা জমা দিতে বলেছেন। সেখানে ট্রাম্প, তাঁর প্রশাসন বা তাঁর পরিবারের কাউকে কোনও উপহার, পুরস্কার বা আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে কি না, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফিফার নিউইয়র্ক ও মিয়ামি অফিসের ভিজিটর লগ এবং হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগন্যালের মতো প্ল্যাটফর্মের সমস্ত চ্যাট রেকর্ডও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাস্কিন।

 

বিশ্বকাপ চলাকালীন মার্কিন খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেছিলেন। যে কারণে পরের ম্যাচের জন্য তিনি নিষেধাজ্ঞা পান। তবে নকআউট ম্যাচে তাঁর সাসপেনশন পুনর্বিবেচনার জন্য ইনফান্তিনোকে সরাসরি ফোন করেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপরই ফোলারিন বালোগানের নির্বাসন তুলে নেয়া হয়। ফিফার দাবি, তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবু এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

 

চিঠিতে মার্কিন বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাস্কিন। ২০১৫ সালের ফিফা দুর্নীতি মামলার তদন্ত আচমকাই বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। রাস্কিনের দাবি, এর পিছনে ফিফার ট্রাম্প-তোষণ নীতিই দায়ী। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের টিকিটের কালোবাজারি নিয়েও কড়া ভাষায় ফিফার সমালোচনা করেছেন তিনি।

 

রাস্কিনের বক্তব্য, শুরুতে ফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫৫০ ডলার (প্রায় ২ লক্ষ টাকা)। কিন্তু ফিফা ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের সুযোগ নিয়ে সেই দাম বাড়িয়ে প্রায় ৩৩,০০০ ডলারে (প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা) নিয়ে যায়। এই ‘বেআইনি’ কাজের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প প্রশাসন নীরব ছিল বলে অভিযোগ।

 

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল রাস্কিনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ আয়োজন করেছেন, যা বিপুল রাজস্ব এনেছে। রাস্কিন নিজে যা বুঝছেন না, তা নিয়ে কথা বলছেন। যদিও নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপের প্রায় ৭০ জন আইনপ্রণেতা ইতিমধ্যেই ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব। আগামী দিনে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে ইনফান্তিনোর বিপদ যে আরও বাড়বে, তা এই চিঠি থেকেই স্পষ্ট।

 

পূর্বকোণ/কিরণ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট