নেপালে ভুয়া নথি তৈরি করে দেশটির নাগরিকদের ভুটানি শরণার্থী পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগে সাবেক দুই মন্ত্রীসহ ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত কাঠমান্ডু জেলা আদালতের রায় অনুযায়ী, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী টোপ বাহাদুর রায়ামাঝিকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, জালিয়াতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাল কৃষ্ণ খাডকে সহযোগীর ভূমিকার জন্য দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে রায়ামাঝি কারাগারে থাকলেও বাল কৃষ্ণ খাড জামিনে মুক্ত রয়েছেন। রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এর আগে তারা দুজনই এ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
রায়ামাঝির আইনজীবী ধর্ম রাজ রেগমি বলেছেন, তার মক্কেল শরণার্থী নীতিনির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখেননি।
তাই তারা উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন খাডের আইনজীবী পঙ্কজ কর্ণও।
একই মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক শীর্ষ আমলা এবং ভুটানি শরণার্থীদের সাবেক এক নেতাসহ আরও ১৪ জনকে সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
তদন্তে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, ভুয়া ভুটানি শরণার্থী পরিচয়ে কোনো নেপালি নাগরিক শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পেরেছিলেন কি না। ২০২৩ সালে এ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তখন অভিযুক্ত দুই মন্ত্রী আর সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না।
১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে নেপালি বংশোদ্ভূত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ভুটানি রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিতে ভুটান ছেড়ে নেপালে আশ্রয় নেন। পরে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় তাদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ১৩ হাজারকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে পুনর্বাসন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ শরণার্থীকে গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র।
এখনো কয়েক হাজার ভুটানি শরণার্থী পূর্ব নেপালের বিভিন্ন শিবিরে অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, তারা ভুটানে ফিরে যেতে চান।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুবসমাজের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে ৭৬ জন নিহত হন। ওই আন্দোলনের জেরে নেপালের তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।
এরপর চলতি বছরের মার্চে সাবেক র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৩৬ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে জেন-জেড সমর্থিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। শাহ আগের প্রশাসনগুলোর আমলে সংঘটিত দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
পূর্বকোণ/রেহেনুমা নাসির















