চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত রায় আগামীকাল ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই বহুল প্রতীক্ষিত মামলার রায় প্রদান করবেন। এর আগে গত ১৫ জুন দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য এই দিনটি ধার্য করেছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতা আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা ঋণখেলাপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর মনোনয়নপত্র নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতা তৈরি হয়। যদিও গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছিল, তবে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে দিলে ব্যাংকটি আপিল বিভাগে আবেদন জানায়।
একই সময়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীও ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সেই আবেদন মঞ্জুর করে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও একটি শর্ত জুড়ে দেন। আদালত আদেশ দেন যে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং কোনো ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
নির্বাচনী ফলাফল ও বর্তমান অবস্থা আদালতের অনুমতি নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। কিন্তু আইনি জটিলতা ও আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের কারণে এখন পর্যন্ত এই আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি।
আদালতে পক্ষে-বিপক্ষে যারা ছিলেন আগামীকালের এই রায়কে কেন্দ্র করে আইনি অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। আগামীকালকের রায়ের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আসলাম চৌধুরীর অভিষেক ঘটবে কি না।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ
















