চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর: নাহিদ ইসলাম

এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী ও ঋণনির্ভর: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক

১২ জুন, ২০২৬ | ২:৩১ অপরাহ্ণ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত ও ঋণনির্ভর। তার মতে, সরকারের উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নযোগ্য নয় এবং এতে ব্যাংক ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটের সামনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, এই বাজেট অনেকটা উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ আপনি দেখবেন যে, এই বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং আয়ের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাস্তবতাবিবর্জিত। এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা বর্তমান প্রশাসন ও করকাঠামোর মাধ্যমে সম্ভব নয়। এই বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। ফলে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হিসেবে আদায় করতে না পারলে, যা স্বাভাবিকভাবেই সরকার পারবে না, ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সরকারকে ব্যাংক ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হবে।

 

ঋণনির্ভর বাজেটের কারণে ব্যাংক ও বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সরকার সুন্দর সুন্দর কথা বলছে, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দেখাচ্ছে। কিন্তু এই বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেটও হবে। একে ঋণনির্ভর বাজেটও বলা যেতে পারে। ফলে সরকার যখন ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নেবে, তখন এটি দুর্বল ব্যাংকিং খাতের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। এতে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে বেসরকারি খাত সহজে ঋণ পাবে না এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

 

বাজেট বক্তৃতায় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নেই জানিয়ে নাহিদ বলেন, আরেকটি বিষয় দেখে আমরা খুবই অবাক হয়েছি। অর্থমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে আপনি বুঝবেন, তিনি গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছেন। তাঁর কথা শুনলে মনে হবে অর্থনীতিতে অনেক বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি ব্যাংকিং খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে কোনো আলাপ করেননি। ঋণখেলাপি লুটেরা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, পাচারকৃত অর্থ সরকার কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত আনবে, সে বিষয়ে আমরা তাঁর বক্তব্যে কিছু পাইনি। ব্যাংকিং খাত কীভাবে তারা সংস্কার করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে, সে বিষয়েও তাঁর বক্তব্যে কোনো কিছুই আমরা পাইনি।

 

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোয় সরকারকে সাধুবাদ জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের কিছুটা স্বস্তির জায়গা হচ্ছে যে, শিক্ষাখাত, স্বাস্থ্যখাত এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটের বরাদ্দ বেড়েছে। যেহেতু এই সরকার নির্বাচনের আগে থেকেই কার্ডের রাজনীতি করে যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক নিরাপত্তা খাতে তারা বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছে, যার ফলে মানুষ কিছুটা উপকৃত হবে বলে আমরা মনে করি। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি দ্রব্যে কর কমানো হয়েছে। তা যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দ্রব্যমূল্য কিছুটা কমে আসার কথা। তবে কর ছাড়ের ফলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট