কক্সবাজারের মাতামুহুরি উপজেলায় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলুনিরঘোনা এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রবাসীর স্ত্রী ও দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ডাকাতদলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আটকরা হলেন -ডলুনিঘোনার রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩) ও তার ভাই কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪),সাহারবিলের কদ্দাছড়ার মেহেদী হাসান (২৪), এবং কোরালখালী এলাকার মোহাম্মদ তারেক (২৬)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে বাড়িতে অবস্থানরত এক নারী ও তার কন্যাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে মাতামুহুরি তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, তার ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৭ টা পর্যন্ত স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। এসময় পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে ৬ জন।
মাতামুহুরি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ মাসুদ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অধিকতর তদন্তে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পূর্বকোণ/পিআর

















