শ্রীলংকায় প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে সম্প্রতি ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশা মারতে সামরিক ড্রোন মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। শ্রীলংকার ন্যাশনাল ডেঙ্গু কন্ট্রোল ইউনিট ইতোমধ্যে ১৬২টি বিভাগকে সংক্রমণের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পুরো শ্রীলংকা জুড়ে এই সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লেও রাজধানী কলম্বোতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়াকের নির্দেশে সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাইরাসটির অত্যন্ত সংক্রামক ‘ডিইএনভি-২’ স্ট্রেনটি এই প্রাদুর্ভাবের জন্য প্রধানত দায়ী।
২০১৭ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সে বছর ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল এবং অন্তত ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
মৌসুমি বৃষ্টির ফলে ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি চিহ্নিত করতে শ্রীলংকার বিমানবাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে পুলিশ সদস্যরা বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালাচ্ছেন।
চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই ১৮ হাজারের বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, বিশেষ ওয়ার্ড স্থাপন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, গত ডিসেম্বরে দেশটিতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’-এর ধ্বংসাবশেষের কারণে মশার প্রজননক্ষেত্র বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেশটির স্বাস্থ্য খাতের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে ইতিমধ্যে মশার ১১ হাজারের বেশি প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং অবহেলার কারণে চার হাজারের বেশি প্রাঙ্গণের মালিক বা কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়েছে।
আগামী অগাস্টে মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমলে সংক্রমণ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে নভেম্বরের দিকে বৃষ্টিপাত পুনরায় শুরু হলে প্রাদুর্ভাব আবারও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে মৃদু উপসর্গ থাকা রোগীদের বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের বিষয়টিরও সম্ভাব্যতা যাচাই করছে শ্রীলংকা সরকার।
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ















