চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন

ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ জুলাই, ২০২৬ | ৪:১৩ অপরাহ্ণ

ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) সম্প্রতি তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাতকরণের অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কিউডেঙ্গা ভারতে বাজারজাতকরণের অনুমোদন পাওয়া ডেঙ্গুর প্রথম টিকা হতে যাচ্ছে।

 

তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়া’র প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৪ বছর থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়সী যে কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই টিকা গ্রহণ করতে পারবে। ‘কিউডেঙ্গা’ মূলত একটি ‘লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড টেট্রাভেলেন্ট’ ভ্যাকসিন, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ভিন্ন সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম। তিন মাসের ব্যবধানে দুই ডোজে এই টিকা শরীরে প্রয়োগ করতে হয়।

 

কোম্পানির দাবি, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, কিউডেঙ্গা টিকা নেওয়া যাবে এবং টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা জানতে কোনো প্রাক্‌-টিকাদান পরীক্ষার (প্রি-ভ্যাকসিনেশন স্ক্রিনিং) প্রয়োজন নেই।

 

ভারতে ডেঙ্গু যখন এক বিশাল জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখনই এই টিকার অনুমোদন এলো। বিগত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতে রেকর্ড করা হয়, যদিও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে- প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর মোট রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতীয়।

 

বিভিন্ন মডেলভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।

 

ভারতে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন কর্মসূচির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। এ কর্মসূচির আওতায় ফেজ–১, ফেজ–২ ও ফেজ–৩-এর মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ডেঙ্গুপ্রবণ ও ডেঙ্গু-অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।

 

ফেজ–৩–এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নেন।

 

তাকেদার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত (ভাইরোলজিক্যালি কনফার্মড) ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। আর ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর এর কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।

 

এ ছাড়া সাড়ে চার বছর পর্যন্ত ফলোআপ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। আর সাত বছর পর্যন্ত ফলোআপে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই ডেঙ্গু রোগ এবং ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটি দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিয়েছে।

 

ভারতে এই অনুমোদনের পক্ষে ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পরিচালিত একটি ফেজ–৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

 

ওষুধ কোম্পানির দাবি, ওই গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টি করতে সক্ষম।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট