চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

মুক্তি পেলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা
কারাগার থেকে বের হয়ে আসছেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। ছবি: রয়টার্স

মুক্তি পেলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ মে, ২০২৬ | ২:০১ অপরাহ্ণ

থাইল্যান্ডের ধনকুবের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা আজ ভোরে প্যারোলে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

৭৬ বছর বয়সী এই ধনকুবের দুর্নীতির অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। সেই দণ্ডের আট মাস পার হওয়ার পর বিশেষ শর্তে মুক্তি পেলেন তিনি। কারাগার থেকে বের হয়ে আসার পর উল্লসিত জনতা তাকে বরণ করে নেয়।

 

২৫ বছর ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন তিনি। এ সময় দেশটির রাজনীতির ধরণ অনেকটা পাল্টে দেন তিনি। কিন্তু তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ও চলতি বছরের প্রথমদিকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার এক সময়ের শাক্তিশালী রাজনৈতিক দল ফু থাই পার্টি রেকর্ড বাজে ফলাফল করার পর তার প্রভাব অনেকটা হ্রাস পায়।

 

ব্যাংককের ক্লং প্রেম কারাগার থেকে সাদা শার্ট পরা থাকসিন হাসি মুখে বের হয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। এদের মধ্যে তার কন্যা ও রাজনৈতিক শিষ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাও ছিলেন। থাকসিন কারাগারে যাওয়ার ১০ দিন আগে আগস্টে আদালত পেতংতার্নকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করেছিল।

 

থাকসিনের মুক্তি উপলক্ষ্যে তার শত শত সমর্থক কারাগারের সামনে জড়ো হয়েছিল। তাদের অনেকের পরনে ছিল পার্টির বৈশিষ্ট্যমন্ডিত লাল শার্ট। থাকসিন বের হওয়ার মাত্রই তারা ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ বলে শ্লোগান তোলেন।

 

‘তিনি কেমন বোধ করছেন’, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে থাকসিনকে হাত মাথার উপরে তুলেন আর জানান, তিনি ‘স্বস্তিবোধ’ করছেন।

 

বলেন, “আমি শীতনিদ্রায় ছিলাম। আমি এখন আর কিছু মনে করতে পারছি না।”

 

থাকসিন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ এ এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতজনিত কর্মকাণ্ডের জন্য পাওয়া আট বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে দেশে ফিরে আসেন। তার ফিরে আসার দিনটিতেই ফু থাই দলের প্রার্থী থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়।

 

এরপর কারাগারে একদিনও না রেখে তাকে ব্যাংককের একটি হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে ভর্তি করা হয়। তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও বুক ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন। পরে থাইল্যান্ডের রাজা তার সাজার মেয়াদ কমিয়ে এক বছর করে দেন। এরপর প্যারোলো মুক্তি পাওয়ার আগে থাকসিন ছয়মাস হাসপাতালে থাকেন।

 

এ সময় সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে বলে, থাকসিন ও তার চিকিৎসকরা ছোটখাট ও অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার হাসপাতালে অবস্থানকে দীর্ঘায়িত করেছে, তাই তাকে সেই সময়টা আবার কারাগারে কাটাতে হবে।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট