
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন এবং একে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।
এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ নিন্দা জানান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সোমবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ কার্যকর করায় বেইজিং এই প্রতিক্রিয়া জানাল।
মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেন, অবরোধ কেবল ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে এবং ইতিমধ্যে ভঙ্গুর হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে’।
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।”
ইরানকে চীন নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জিয়াকুন।
এর আগে, তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এর জবাবে চীনা মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অজুহাতে চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে, তবে বেইজিং অবশ্যই এর বিরুদ্ধে দৃঢ় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস ল্যান্ডেল মনে করেন, চীন তার প্রয়োজনীয় তেলের একটি বড় অংশ ইরান থেকে আমদানি করে।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে চীনের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন মার্কিন অবরোধের হুমকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় হরমুজ প্রণালি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও বাধাহীন রাখা উচিৎ।
জিয়াকুন আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানে ‘একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে’ চীন প্রস্তুত হয়ে আছে।
চীন ইরানে অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে, প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে সেগুলোকে ‘ভিত্তিহীন অপবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
পূর্বকোণ/পারভেজ