বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ মামলাটি করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর উপপরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, একটি কথিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ ছাড় করানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের আটজন, চসিকের তিনজন ও সীমান্ত ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। কমিশনের অনুমোদনের পর এ ঘটনায় মামলা করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, কোহিনুর আক্তার নামের এক নারী শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামে একটি কথিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে চসিক থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় হিসাব খোলার পর রেলওয়ের ভুয়া বিলের বিপরীতে চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইস্যু করা ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেকটি পরদিন ওই ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন শাখা থেকে কয়েক দফায় অর্থ উত্তোলন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মী মো. হাবিবুল্লা খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া চসিকের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া ও সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর উপপরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কমিশনের নির্দেশে মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কমিশনের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, রেলওয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে গতকাল দৈনিক পূর্বকোণে ‘দিনমজুরকে ‘কোটিপতি ব্যবসায়ী’ বানিয়ে রেলওয়ের অর্থ লোপাট!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
পূর্বকোণ/পল্লবী



















