চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

আবাসিক ভবনে হাসপাতাল ল্যানসেটের, পার্কিংয়ে ফার্মেসি-দোকান

আবাসিক ভবনে হাসপাতাল ল্যানসেটের, পার্কিংয়ে ফার্মেসি-দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৯:১৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে ভবনের অনুমোদিত নকশায় পাকিং ব্যবস্থাপনা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুপার মার্কেটগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নগরীর তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ও উৎসব সুপারমার্কেট এবং আল হিদায়াহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভবনের অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীতে ল্যানসেট হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, আবাসিক ভবনে হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থানেও ফার্মেসি ও বিভিন্ন দোকান স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থারও কোনো লেশ পাওয়া যায় নি। সার্বিক অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চউক চেয়ারম্যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এক মাসের সময় দেন। এ সময়ের মধ্যে অনুমোদিত ভবনে হাসপাতালের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে অথবা হাসপাতাল অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যথায় আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

বেলভিউ হাসপাতাল হাসপাতালটির কার্যক্রম এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। পরিদর্শনে পার্কিং ব্যবস্থা মোটামুটি সন্তোষজনক পাওয়া যায়। তবে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নির্ধারিত স্থানে পার্কিং না থাকায় নির্ধারিত স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উৎসব সুপারমার্কেটের নিজস্ব পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় গ্রাহকদের যানবাহন সড়কে অবস্থান করে যানজট সৃষ্টি করছে বলে পরিদর্শনে দেখা যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পাওয়া না যাওয়ার কারণে আগামীকালের মধ্যে অনুমোদিত নকশা নিয়ে চউক কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল হিদায়াহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলটি আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থানে পাঠদান কার্যক্রম ও ফুডকার্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চউক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারনামা প্রদান করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের চউক চেয়ারম্যান বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান নয়। সকল প্রতিষ্ঠান যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই শহরকে যানজটমুক্ত করতে হলে ভবনগুলোর নির্ধারিত পার্কিং উন্মুক্ত ও কার্যকর রাখতে হবে। একই সঙ্গে নগরীকে বাসযোগ্য করতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।”

তিনি বলেন, “আবাসিক ভবনে যারা হাসপাতাল পরিচালনা করছেন, তাদের এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনুমোদিত ভবনে হাসপাতাল স্থানান্তর করতে হবে। ট্রিটমেন্ট হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কেউ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন না। তাদের অনুমোদিত নকশা নিয়ে চউক কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। শেভরন ও বেলভিউ হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক। তবে শেভরনের নিচতলায় নকশা অনুযায়ী কিছু পার্কিং কম পাওয়া গেছে। তা তিন মাসের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চউক এর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীন, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাং মনজুর হাসান, অথরাইজ অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ, অথরাইজ অফিসার-২ তানজিব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট