চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

মন্তব্য প্রতিবেদন

পিংক বাস শুধু নারীর পরিবহন নয়, হোক স্তন ক্যান্সার সচেতনতার চলমান প্রতীক

প্রফেসর ডা. খন্দকার এ কে আজাদ

১৮ আগস্ট, ২০২৬ | ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ

আজ থেকে চালু হচ্ছে বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ সার্ভিস-নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যেখানে চালক ও কন্ডাক্টরও হবেন নারী। তবে এই গোলাপি বাসকে শুধু নারীদের জন্য একটি পরিবহনসেবা হিসেবে নয়, নারী স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় চলমান মাধ্যম হয়ে ওঠার বিরল সুযোগ হিসেবে আমরা ভাবতে পারি।

 

গোলাপি রং দীর্ঘদিন ধরে নারীত্ব, মমতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার সঙ্গে প্রতীকিভাবে যুক্ত; একই সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যান্সার সচেতনতার অন্যতম পরিচিত প্রতীক। তাই প্রতিদিন একজন নারী যখন এই বাসে উঠবেন কিংবা রাস্তায় গোলাপি বাসটি ছুটে যেতে দেখবেন, তখন এই রং যেন নীরবে তাঁকে মনে করিয়ে দেয়-নিজের স্তন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

 

এই গোলাপি রং যদি নারীরা শুধু চোখে না দেখেন, বরং সচেতনতার বার্তা হিসেবে মনেও ধারণ করেন, তাহলে পিংক বাস একটি পরিবহনসেবার গণ্ডি পেরিয়ে জনস্বাস্থ্যের এক জীবন্ত মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
এই সম্ভাবনাকে আরও অর্থবহ করতে বাসের ভেতরে রাখা যেতে পারে সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য স্তন ক্যান্সার সচেতনতার বার্তা। ছোট ভিডিও ডিসপ্লেতে দেখানো যেতে পারে স্তনের পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ এবং স্তন নিজেই পরীক্ষা করা সম্পর্কে শিক্ষামূলক ভিডিও। যাত্রাপথের সময়টুকুই তখন হয়ে উঠতে পারে নারীদের জন্য স্বাস্থ্যশিক্ষার একটি কার্যকর সুযোগ।

 

রাতে বাসের সামনে একটি স্বতন্ত্র গোলাপি আলো এই উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। দূর থেকে দৃশ্যমান এই আলো যেন নারীদের পরিচিত এক বন্ধুর মতো প্রতিদিন মনে করিয়ে দেবে- “নিজের স্বাস্থ্যের কথা মনে রাখুন, সচেতন থাকুন।” শুধু নারীই নন, তাঁর পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীদের কাছেও এটি পৌঁছে দিতে পারে স্তন স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা। নারীর নিরাপদ যাতায়াতের সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য, সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাসকে যুক্ত করার এই সুযোগটি সামান্য সংযোজনেই অসামান্য সামাজিক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

 

উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, অক্টোবর—স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস—জুড়ে কিছু বাস গোলাপি রঙে সেজে শহরময় ঘুরে বেড়ায়, সচেতনতার বার্তা ছড়ায়। আর আমাদের এই পিংক বাস শুধু অক্টোবর নয়, বছরজুড়েই শহরের পথে চলবে। পিংক অক্টোবরকে সামনে রেখে পিংক বাস সার্ভিস চালু হওয়া সত্যিই একটি সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ। যদিও স্তন ক্যান্সার সচেতনতা এই বাস সার্ভিস চালুর মূল উদ্দেশ্য নয়, বিদ্যমান এই উদ্যোগের সঙ্গে স্তন ক্যান্সার সচেতনতার ধারণাটি যুক্ত ও প্রচার করা গেলে পিংক বাস হয়ে উঠতে পারে নারীস্বাস্থ্য সচেতনতার এক শক্তিশালী চলমান প্ল্যাটফর্ম।

 

পিংক বাস শুধু নারীদের বহন করুক না-বহন করুক নারীর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং স্তন ক্যান্সার সচেতনতার নিরবচ্ছিন্ন বার্তা। কারণ যে সচেতনতা একজন নারীর জীবন বাঁচাতে পারে, সেই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে একটি চলমান বাসের চেয়ে কার্যকর বাহন আর কী হতে পারে?

 

লেখক: চেয়ারম্যান- পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সার্জারি একাডেমিয়া।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট