প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজায় শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে প্রথমবারের মতো কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক অপতৎপরতা ও পুনর্বাসনের চেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা। কর্মসূচিতে সংহতি জানায় যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিকশক্তি।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নবনির্বাচিত আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে এবং নবনির্বাচিত সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন ও হুজ্জাতুল্লাহ বিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক জোবাইর হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ ইকবাল চৌধুরী ও আশরাফুল হক টিপু, যুবশক্তির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইফাদ ইব্রাহিম প্রমুখ।
সমাবেশে আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, একজন মুসলিম হিসেবে কারও জানাজা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের আপত্তি তখনই যখন দেখতাম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদির জানাজা হতে দেওয়া হতো না। তখন এই নেতাদের জন্য পরিবারকে একাধিক কবর খুঁড়তে হতো। কিন্তু আমরা দেখলাম এক আওয়ামী লীগ নেতার জানাজা শেষে শেখ হাসিনাকে বীরের বেশে ফিরিয়ে আনতে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব খুনি ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’
সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, জানাজায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য স্লোগান দেওয়া হলো। খুব নির্লজ্জভাবে দেখলাম জয়বাংলা স্লোগান দিচ্ছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তারা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এটা বীর চট্টলা। জুলাই-জনতা তাদের সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবে।’
অন্যান্য নেতারা বলেন, ‘চট্টগ্রামের মাটিতে আওয়ামী লীগের কোনো ধরনের গোপন বা প্রকাশ্য অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। তারা যদি আবার কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে চট্টগ্রামের সচেতন ছাত্র-জনতা ও এনসিপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা রাজপথেই তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে। আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যেকোনো স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থান ঠেকাতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে সর্বদা সজাগ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এনসিপি, যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিকশক্তি।’
সমাবেশ শেষে প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা, আওয়ামী লীগের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’ সহ নানা স্লোগান দেন।
পূর্বকোণ/আরআর
















