ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশে মসলার বাজারে কোনো সরবরাহ সংকট নেই। আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়মিত আমদানি এবং পর্যাপ্ত মজুদের কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে নিয়মিত চালান আসছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে মসলার দাম স্থিতিশীল আছে। কিন্তু সেই দামের তুলনায় খুচরা বাজারে দাম অনেক বেশি।
চট্টগ্রামের প্রধান পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের সঙ্গে নগরীর খুচরা বাজারের দামের তুলনায় দেখা গেছে, অনেক পণ্যের দাম খুচরায় প্রায় দ্বিগুণ। পাইকারিতে ৭৫০ টাকার জায়ফল খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। দারুচিনি পাইকারিতে ৩৫০ থেকে ৪৪০ টাকা হলেও খুচরায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। একইভাবে ১ হাজার ২০ টাকার গোলমরিচ খুচরায় ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এলাচ, জিরা, হলুদ ও মরিচের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। খাতুনগঞ্জে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকার এলাচ খুচরা বাজারে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে ১৮০ টাকার হলুদ খুচরায় ৩০০ টাকা এবং ২৩০ টাকার শুকনা মরিচ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রসুন, আদা ও পেঁয়াজের বাজারেও পার্থক্য স্পষ্ট। পাইকারিতে দেশি রসুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা হলেও খুচরায় তা ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। আদা পাইকারিতে ৯০ থেকে ১০০ টাকা হলেও খুচরায় ১৬০ টাকা, আর ২০ থেকে ২৮ টাকার পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উচ্চ আমদানি শুল্ক ও বাজার তদারকির দুর্বলতার কারণেই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। আমদানিকারকেরা জানিয়েছেন, ৫০০ টাকার জিরায় প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়। এলাচে কেজিপ্রতি ৬৫০ টাকা এবং গোলমরিচে ২২০ টাকা শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এই উচ্চ শুল্কের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্থলবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনছে, ফলে বৈধ আমদানিকারকেরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরে নজরদারি জোরদার হলেও স্থলবন্দরগুলোতে তা কার্যত নেই।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারে লাগামহীন মুনাফা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তারা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সাধারণ মানুষের জন্য ঈদের বাজার আরও চাপের হয়ে উঠবে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১২ ধরনের মসলা আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে রসুন, আদা ও দারুচিনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোরবানির মৌসুমি চাহিদা মেটাতে বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত এলাচ, দারুচিনি ও জিরার মজুদ রয়েছে।
ঈদুল আজহার চাহিদার বিপরীতে দেশে মসলার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীর সংকটের সঙ্গে মসলা আমদানির দেশগুলোর সরাসরি যোগসূত্র না থাকায় জাহাজ ভাড়া বাড়লেও তা বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে না।
পূর্বকোণ/আরআর


















