চট্টগ্রাম নগরীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে বের হয়ে বড় বিপদে পড়ে গিয়েছিল এক শিক্ষার্থী। অসাবধানতাবশত তার রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও এডমিট কার্ডভর্তি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বাসেই ফেলে নেমে যায়। পরীক্ষার বাকি তখন মাত্র আধাঘণ্টা। দুশ্চিন্তায় কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় মাত্র ১০ মিনিটেই ফিরে আসে সেই ফাইল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীটি।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া এলাকায়।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদাফ মজুমদার নগরীর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সকালে রৌফাবাদ এলাকা থেকে বিআরটিসির দোতলা বাসে করে পরীক্ষাকেন্দ্র বাওয়া স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। বাওয়া স্কুলের সামনে বাস থেকে নামার পর হঠাৎ তার মনে হয়— রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও এডমিট কার্ডসহ ফাইলটি বাসেই রেখে নেমে গেছেন।
মুহূর্তেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে সাদাফের। সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে বাওয়া স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজ পার হয়ে রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে নিরব কান্না করতে থাকেন তিনি। তার ধারণা ছিল, বাসটি হয়তো ইউটার্ন নিয়ে আবার ফিরে আসবে।
এসময় সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আলাউদ্দিন। কান্না জড়ানো কণ্ঠে সাদাফ সার্জেন্ট আলাউদ্দিনকে খুলে বলেন পুরো ঘটনা। ঘটনা শুনেই দ্রুত ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম ‘ডেল্টা থ্রি’-তে বার্তা পাঠান।
পরীক্ষা শুরু হতে বাকি মাত্র ৩০ মিনিট। পুরো ট্রাফিক চ্যানেলজুড়ে শুরু হয় উদ্বেগ আর খোঁজাখুঁজি— কোথায় সেই বিআরটিসি বাস?
ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়। টিআই অ্যাডমিন সুশোভনের নির্দেশে ফলমন্ডি এলাকায় দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট আতিকুর রহমানকে পাশের বিআরটিসি ডিপোতে খোঁজ নিতে বলা হয়।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডিপোতে খুঁজে পাওয়া যায় বাসটি। চালকের কাছ থেকে ফাইলটি সংগ্রহ করে দ্রুত বাওয়া স্কুল কেন্দ্রে ছুটে যান সার্জেন্ট আতিকুর রহমান। সেখানে দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট রেজাউলের সহযোগিতায় মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই পরীক্ষার্থী সাদাফ মজুমদারের হাতে তুলে দেওয়া হয় তার এডমিট কার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
অপ্রত্যাশিত এই সহযোগিতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে সাদাফ ও তার পরিবার।
ঘটনাটি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। বিষয়টি নজরে আসে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পরে তিনি এই কাজে জড়িত পুরো টিমকে ডেকে পুরস্কৃত করেন।
নগরবাসীর অনেকেই বলছেন, দায়িত্বের বাইরেও মানবিকতা দিয়ে কাজ করায় ট্রাফিক পুলিশের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।


















