চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

বোরো সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা

খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহ

বোরো সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

৭ মে, ২০২৬ | ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

গত কয়েক বছর বোরো ও আমন মৌসুমে চট্টগ্রামে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। এবার বোরো মৌসুমে পাকা ধানে মই দিয়েছে কালবৈশাখীর ঝড়। সেই ঝড়ে ধান চাষে বড় ক্ষতি হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মৌসুমে খাদ্য অধিদপ্তরের বোরো ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

চলতি বছর চালের দাম কেজিতে এক টাকা কমিয়ে ধানের দাম দুই টাকা বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে গতবারের চেয়ে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ধানের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

 

খাদ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে আতপ চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ হাজার ৫০০ টন। গত বছর ছিল ৬ হাজার ৩৩ টন। এবার সিদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪৫০ টন। ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয় ৬ হাজার ৫০৬ টন। গত বছর ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৩৫৯ টন। সরকার সিদ্ধ চালের দাম দিয়েছে ৪৯ টাকা করে। আতপ চালের দাম ৪৮ টাকা। চালের দাম গত বছরের তুলনায় এবার এক টাকা করে কমেছে। আর ধানের দাম গতবারের চেয়ে দুই টাকা বাড়িয়ে এবার ৩৬ টাকা করা হয়েছে।

 

চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করবে খাদ্য বিভাগ।

 

খাদ্য কর্মকর্তারা বলেন, এবার সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে সীতাকুণ্ড ও ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে। আর সন্দ্বীপ ও বোয়ালখালীতে চাল মিল না থাকায় এই দুই উপজেলা থেকে আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে না। মহানগর ও অন্য ১৩ উপজেলা থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে।

 

কৃষকেরা জানান, সরকারের চেয়ে বেরসকারি পর্যায়ে ধানের দাম বাড়তি থাকে। তাই কৃষকেরা সরকারের চেয়ে বেসরকারি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ধান বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

 

বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের চাষি কুমকুম দাশ বলেন, ‘খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির সময় ওজনে কারচুপি ও আর্দ্রতার নামে ৩০-৪০ শতাংশ বাদ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য গুদামে কৃষকদের ঠকানোর প্রণবতা চলে আসছে। হয়রানির কারণে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।’ তিনি বলেন, সরকারের চেয়ে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরা ধানের ভালো দাম দেয়। খেত-উঠোন থেকে নিয়ে যায়। তাই কৃষকেরা তাদের কাছে ধান বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে বোরো আবাদ হয়েছে ৭০ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমি। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৬৮ হাজার ৫৪৯ হেক্টর জমি।

 

বোয়ালখালীর জৈষ্ঠ্যপুরার বামনবিলের কৃষক লিটন চৌধুরী বলেন, ‘১৬০ শতক জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে লাখ টাকার বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

 

একই ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বপন কান্তি বড়ুয়া জানিয়েছিলেন, ‘এবার ১২০ শতক জমিতে ধান চাষে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কালবৈশাখীর ঝড়ে প্রায় ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

 

চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলায় বয়ে যাওয়া ভারী বৃষ্টিতে বোরো ধান ও সবজির বড় ক্ষতি হয়েছে।

 

খাদ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত দুই বছর ধরে আমন ও বোরো মৌসুমে ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। কর্মকর্তাদের দাবি, চট্টগ্রাম হচ্ছে খাদ্য ঘাটতি এলাকা। এখানে চালের আবাদ কম হয়। তাই ধান সংগ্রহের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় না। এবারও বোরো মৌসুমে ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খাদ্য কর্মকর্তারা।

 

চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রাজীব কুমার দে পূর্বকোণকে বলেন, চট্টগ্রামের এবার বোরো আবাদ কিছুটা মার খেয়েছে। তাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কৃষক যাতে ধানের ভালো দাম পায়। ধানের দাম এবার দুই টাকা বাড়িয়েছে। কৃষক ভালো দাম পাচ্ছে এবং সরকারের সেই লক্ষ্য অনেকটা পূরণ হচ্ছে।’

 

সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সবচেয়ে বেশি ধান ও চাল সংগ্রহ করে বোরো মৌসুমে। বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরবরাহের জন্য অভ্যন্তরীণ ছাড়াও বিদেশি উৎস থেকে চাল ও গম আমদানি করে সরকার মজুত বৃদ্ধি করে। বর্তমানের সরকারের কাছে চাল মজুত রয়েছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৮৭ টন। গম মজুত আছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৪ টন। ধান মজুত রয়েছে ২৬৫ টন।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট