সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে জোর করে চট্টগ্রাম শহরটাকে নষ্ট করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল সোমবার সকালে পূর্বকোণ অনলাইনের ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এই অভিযোগ করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের যে কোনোভাবে শহরটাকে জলাবদ্ধতামুক্ত ও সুন্দর রাখতে হবে। জলাবদ্ধতার সব কাজ কিন্তু করছে সেনাবাহিনী ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ২০১৬ সালে তখনকার সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, শেখ হাসিনাসহ জোর করে চসিক থেকে প্রকল্প সিডিএ-তে নিয়ে যান। অথচ তাদের কোনো জনবল নেই। পরে তারা সেনাবাহিনীকে সেই কাজ দিয়েছে। সেনাবাহিনী এখন এই কাজটা করছে। কাজটা যদি চসিক করতো, তাহলে আমাদের লোকবল-ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে এই কাজটা দ্রুত শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু সেই ২০১৬ থেকে এখন ২০২৬ সাল, ১০ বছর হয়ে গেলেও কাজটি শেষ হয়নি। এর দায় তাদের নিতে হবে।’
জলাবদ্ধতার জন্য নিজের কোনো দোষ দেখছেন না সিটি মেয়র। তিনি বলেন, ‘সারাক্ষণ দেখি মেয়রের ওপর গালি। প্রকল্প তো আমার অধীনে ছিলই না। আমার তো দোষ নেই। যদি দোষ থাকে আমার দিকে ১০০ বার আঙুল তোলেন, সমস্যা নেই। কিন্তু যেখানে আমার দোষ নেই, আরেকজনের দোষ আছে, সেখানে তাকে যদি বাঁচিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তো সে নিরাপদ হয়ে গেলো। এরকম হলে তো সে আর কাজ করবে না।’
সম্প্রতি শহরে কেন পানি উঠেছে, সেটি ব্যাখ্যা করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বরে হিজড়া খালের কাজ শুরু হয়। কথা ছিল মার্চের মধ্যে সেই কাজ শেষ হওয়ার। কিন্তু এপ্রিল চলে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। তারা (সিডিএ) অবশ্য কাজ করেছে। খালগুলো অনেক বড় করেছে। ফাইনালি রিটার্নিং ওয়াল দিতে গিয়ে তারা খালে বাঁধ দিয়েছে। প্রায় ১১টা বাঁধ দিয়েছে। এ কারণে প্রবর্তক, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পানি উঠে। এছাড়া জামালখান খালে ৯-১০টা, আজব বাহার খাল ও মহেশখালের একটা অংশেও বাদ দেওয়ায় রামপুরা ওয়ার্ডে পানি উঠে। আবার কমার্স কলেজ এলাকায় যে পানি উঠেছে সেখানে কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা স্লুইসগেট নির্মাণ করতে গিয়ে বাঁধ দিয়েছিল, সেই বাঁধটি খুলতে না পারায় পানি উঠে।’
তবে শহর সুন্দর রাখতে শুধু সংস্থাগুলো কাজ করে গেলে হবে না, মানুষদেরও দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, ‘সারাক্ষণ সংস্থাগুলো ময়লা ক্লিন করবে আর মানুষ সারাক্ষণ ময়লা ফেলবে-এটা তো হতে পারে না। ওদেরও তো কিছু দায়িত্ব আছে। সবাই তো জানে পলিথিন-প্ল্যাস্টিক ফেললে জলাবদ্ধতা হবে। আবার প্ল্যাস্টিকের বোতলে পানি জমলে এডিশ মশার লার্ভা জন্মাবে। সেখান থেকে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, জিকা ভাইরাসের মতো মারাত্মক ব্যাধি হতে পারে। জিনিসগুলো বারবার বলার পরও বদলাচ্ছে না। নাগরিক দায়বদ্ধতা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ছাড়া শহরকে সুন্দর জায়গায় নিয়ে আসা যাবে না। আমাদের মনে রাখতে হবেÑএই শহরটা আমার একার না, এই শহরটা সবার। সবাইকে মিলেই শহরটাকে সুন্দর করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরফুল ইসলাম মাহিকে আসন্ন বর্ষা নিয়ে সতর্ক করেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘এবারও ছয়মাস বর্ষা হতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় মশক নিধন কার্যক্রম কিন্তু ঠিকমতো হচ্ছে না। মশা নিয়ে গাফেলতি হলে কিন্তু জবাবদিহি করতে হবে।’


















