চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

প্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কারাগারে
প্রতীকী ছবি

পিবিআইকে পুনঃ তদন্তের নির্দেশ ওসি প্রদীপসহ আসামি ছয় জন

রাউজানের সেই অপহরণ মামলায় বাদীর নারাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

৪ মে, ২০২৬ | ১০:২২ অপরাহ্ণ

ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও অপহরণের অভিযোগে রাউজান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক চিকিৎসকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন বাদী ডা.জাহাঙ্গীর আলম। 

সোমবার চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালত বাদীর নারাজি গ্রহণ করে পিবিআইকে মামলা পুন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিনিয়র আইনজীবী কফিল উদ্দিন বাদীর পক্ষে মামলা শুনানি করেন।

জানা গেছে,  ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ডা. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বাদীর এজাহার রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা হিসেবে নিতে নির্দেশ দেন । মামলার আসামিরা হলেন, রাউজান থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই টোটন মজুমদার, এসআই শাফায়েত আহমদ, পাইওনিয়ার হসপিটালের চেয়ারম্যান ডা. ফজল করিম প্রকাশ বাবুল, পাইওনিয়ার হাসপাতালের পরিচালক মনজুর হোসেন ও পাইওনিয়ারের সুপারভাইজার মো.জাহাঙ্গীর আলম। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভূঁইয়া গত ২৬ নভেম্বর এই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।

মামলার বাদী নোয়াপাড়ার বাসিন্দা চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ও এক নম্বর আসামি টোটন মজুমদার রাউজান থানার সহকর্মী। তদন্ত কর্মকর্তা সহকর্মী পুলিশ সদস্যদের রক্ষা করতে মূল ঘটনা আড়াল করে আদালতে মিথ্যা ও সাজানো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষীদের সাক্ষ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করেননি, বরং বিকৃত করেছেন। বাদী ও ভিকটিম দুজনই হলফনামা দিয়ে স্বীকার করেছেন আমার বিরুদ্ধে করা মামলাটি ছিল মিথ্যা।

ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে নোয়াপাড়ায় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার সময় রাউজান থানার তখনকার এসআই টোটন মজুমদার তাকে বিএনপির কমিটিতে নাম থাকায় ক্রসফায়ার দেওয়ার হুমকি দেন। অন্যথায় বাঁচতে চাইলে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় এসআই টোটন মজুমদার, এসআই শাফায়েত আহমদ, রাউজান থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে চেম্বারে গিয়ে অপহরণ করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। পরে এসআই টোটন মজুমদারসহ আসামিরা মিলে ২০১৫ সালে ৪ এপ্রিল তারিখের একটি মিথ্যা মামলা সাজায়। সেই মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি আরও বলেন, পরে মামলাটির ভিকটিম মো. রাসেল শেখ ওরফে মো. রাসেল ড্রাইভার হলফনামা দিয়ে বলেনÑ মামলায় উল্লিখিত তারিখে আমার সাথে তার কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাদী কেন তাকে ভিকটিম বানিয়ে মিথ্যা মামলাটি করেছে তা তার জানা নেই।

 

মামলার বাদী আসামি পাইওনিয়ারের সুপারভাইজার মো.জাহাঙ্গীর আলমও হলফনামায় ঘোষণা করেন Ñ রাউজান থানার এসআই টোটন মজুমদার, সাবেক এসআই শাফায়েত আহমদ, তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশের আদেশে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপে পড়ে মিথ্যা মামলায় বাদী হিসেবে যুক্ত হন। ওই মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করলে তার কোনো আপত্তি নেই।’

 

প্রসঙ্গত, ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে করা সেই মামলাটি খারিজ হয়। এরপর তিনি রাউজান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আলোচ্য মামলাটি দায়ের করেন।

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট