চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

চট্টগ্রামে হজযাত্রীদের শীর্ষে হাটহাজারী, সর্বনিম্ন ইপিজেড

নারীদের সংখ্যাও বেড়েছে

চট্টগ্রামে হজযাত্রীদের শীর্ষে হাটহাজারী, সর্বনিম্ন ইপিজেড

ইমাম হোসাইন রাজু

৪ মে, ২০২৬ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আসন্ন পবিত্র হজকে সামনে রেখে গত ১৮ এপ্রিল ঢাকা থেকে এবং ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। ইতিমধ্যে অধিকাংশ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছে গেছেন। বাকিদের যাত্রার প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত।

 

চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলার এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হজে যাওয়ার সংখ্যায় উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা এককভাবে আধিপত্য ধরে রেখেছে। সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নগরীর ইপিজেড। অন্যদিকে, নগরী থেকে হজে যাওয়া নারীদের সংখ্যা আগের থেকে বেড়েছে।

 

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার ৩৩টি থানা ও উপজেলার মধ্যে হজযাত্রীর নিবন্ধনে বরাবরের মতোই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে হাটহাজারী উপজেলা। এ বছর এ এলাকার সর্বোচ্চ ৪৭১ জন হজযাত্রী এবার পবিত্র মক্কায় পাড়ি জমাচ্ছেন। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নগরীর কোতোয়ালী থানা, যেখান থেকে হজে যাচ্ছেন ৩১৩ জন। এছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জনপদ রাউজান থেকে ৩০৭ জন এবং পাঁচলাইশ এলাকা থেকে ২৮৭ জন হজযাত্রী নিবন্ধিত হয়েছেন। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে থাকা হালিশহর থেকে ২৭৯ জন এবং সাতকানিয়া উপজেলা থেকে ২৬৭ জন আল্লাহর মেহমান হিসেবে এবার হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা নগরীর ইপিজেড থেকে মাত্র ২২ জন যাচ্ছেন এবারের হজে।

 

এবারের হজ যাত্রার উল্লেখযোগ্য দিক হলো গতবারের তুলনায় এবার চট্টগ্রামে নারী হজযাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। জেলায় গড় নারী হজযাত্রীর হার ৩৫ শতাংশের আশেপাশে থাকলেও শহরের শিক্ষিত ও সচেতন এলাকাগুলোতে এই হার প্রায় পুরুষের সমান। বিশেষ করে পাঁচলাইশ এলাকা থেকে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে নারীর হার ৪৬ শতাংশ, যা পুরো জেলায় সর্বোচ্চ। এছাড়া পাহাড়তলী ও চাদগাঁও এলাকায় নারী হজযাত্রীর হার যথাক্রমে ৪৫ শতাংশ ও ৪৪ শতাংশ। এমনকি কোতোয়ালী ও খুলশী এলাকা থেকেও ৪৩ শতাংশ ও ৪১ শতাংশ নারী হজে যাচ্ছেন। সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীরা এখন অনেক বেশি সংখ্যায় হজ পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

 

হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (হাব) চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান শরীয়ত উল্লাহ সহীদ বলেন, চট্টগ্রামের হজযাত্রীদের জন্য এবার আমরা সর্বোচ্চ আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে ডিজিটাল হজ পোর্টাল এবং প্রশিক্ষণের ফলে হাজিরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। নারীদের এই বিশাল অংশগ্রহণ আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অগ্রগতির এক অনন্য উদাহরণ।

 

এদিকে, পদ্ধতিগত দিক থেকে চট্টগ্রামের হজযাত্রীদের মাঝে বেসরকারি হজ এজেন্সির প্রতি নির্ভরতা একচেটিয়াভাবে লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম পোর্ট, মিরসরাই এবং আকবর শাহ থানা থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় একজন হজযাত্রীও নিবন্ধিত হননি; সেখানকার শতভাগ যাত্রীই বেসরকারি এজেন্সির ওপর আস্থা রেখেছেন। এমনকি স›দ্বীপ, পতেঙ্গা বা চকবাজারের মতো এলাকায় সরকারি মাধ্যমে নিবন্ধিত যাত্রীর সংখ্যা মাত্র ১ থেকে ২ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট