ধংসস্তূপে বসে কাঁদছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বর্গা চাষা তাপস কান্তি দেবের স্ত্রী পঞ্চাশোর্ধ কৃষাণী রিংকু রাণীর দে। তার কান্না যেন থামানোই যাচ্ছেনা। স্বামী তাপস কান্তি দেব আর একমাত্র ছেলে মিল্টন কান্তি দেবকে নিয়ে ধার-দেনা আর গ্রামীণ ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে ৯০০ শতক অন্যের জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলেন। ফলনও হয়েছিল দেখার মত। কিন্তু কে জানতো, এই ফলন যে ঘরে তোলার আগেই দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে?
নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে। ১৫ নভেম্বর রাতে দূর্বৃত্তরা কৃষাণী রিংকু রাণী দে’র মড়াই করার জন্য রাখা ৪০০ শতক জমির পাকা কাটা ধানে আগুন দিয়ে ধ্বংস করেছে। মধ্যরাতে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে জ্বলা আগুনে রিংকু রাণীর সব শেষ হয়ে গেল। ভাগ্য পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে এসেও রিংকু রাণীর ভাগ্য অধরাই রয়ে গেল। রিংকু রাণীর কান্নায় আকাশ বাতাশ যেন ভারী হয়ে উঠছে। কিভাবে সে ঋণের ঘানি টানবেন। সে কী খাবে, নাকি ঋণের বোঝা বইবে?? এত টাকা ঋণ সে কিভাবে পরিশোধ করবে। এতসব প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না রিংকু রাণী।
এদিকে এ ঘটনায় রিংকু রাণী দে’র স্বামী তাপস কান্তি দেব ভূজপুর থানায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছেন থানা পুলিশ ।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, ফটিকছড়ির ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। পূর্বেও এ কৃষকের গরু চুরি হয়েছিল। দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বিক সহায়তা করা হবে
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ আবু ছালেক জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক’কে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে সাধ্যমত সহায়তা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এটি একটি নেক্কারজনক ঘটনা। কৃষকের মোট ক্ষতির একটি হিসাব করা হচ্ছে এবং সে মোতাবেক তাদের সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে থানাই মামলার পর অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ






















