ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি আদালত। একটি কবিতার মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে সাত বছর আগের মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের আগের দিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শ্রীজাতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বাংলার সচেতন মহল। তবে একটু পরেই কমিশন জানায়, এই খবর ভুয়া।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে পুরোনো মামলা বা পরোয়ানা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া বাধ্যতামূলক। সেই সূত্র ধরেই এই গ্রেপ্তারির নির্দেশ।
আজ বুধবার দুপুরে কলকাতার এক টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ ঘটনা প্রমাণ করছে, এই মুহূর্তে মানুষ কী অবস্থায় রয়েছে।
কবি শ্রীজাত বলেন, ‘আমি যেটুকু শুনেছি, কয়েক বছর আগে একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় এ ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জারি করা হয়েছে। এটিই বলে দেয়, আমরা কোন সময় বাস করছি। দার্শনিক প্লেটো বলেছিলেন, আদর্শ রাষ্ট্রে কবির কোনো জায়গা হতে পারে না। আমরা হয়তো আদর্শ রাষ্ট্র হওয়ার দিকে এগোচ্ছি, যেখানে কবির কোনো জায়গা নেই।’
শ্রীজাত বলেন, ‘গলা খুলে, মাথা তুলে কথা বলা তো নানান সমাজে অন্যায় বলে বিচার করা হয়। হয়তো সেই অন্যায় আমার একটু বেশি হয়ে গেছে, তার মাশুল দিতে হবে।’
২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি কবিতার জেরেই এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। পরোয়ানাটি জামিন অযোগ্য। ২০১৭ সালে শ্রীজাতের কবিতাটি প্রকাশিত হয়। ওই সময় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথ শপথ নেওয়ার পর শ্রীজাত তাঁর ফেসবুকে ‘অভিশাপ’ শীর্ষক ১২ লাইনের একটি কবিতা প্রকাশ করেন।
কবিতার শেষ দুই লাইনের শব্দচয়ন নিয়ে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন দাবি করে, কবি হিন্দুদের পবিত্র প্রতীক ‘ত্রিশূল’ নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
কবিতা প্রকাশের পর অর্ণব সরকার নামের শিলিগুড়ির এক কলেজছাত্র শিলিগুড়ি থানায় শ্রীজাতের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ করেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫–এ (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলাটি করা হয়।
পূর্বকোণ/পিআর





















