মিশর ‘স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য অবিচারের’ শিকার হয়েছে বলে ক্ষোভ জানিয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে উইঙ্গার মোস্তাফা জিকো বললেন, ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’
শেষ বাঁশি বাজার পর থেকেই মোস্তাফা মোহামেদ জিকোর চোখ দিয়ে ঝরছিল পানি। একটু পরে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়েও নিজেকে সামাল দিতে পারছিলেন না তিনি। কান্নার দমকে কথা আটকে যাচ্ছিল বারবার। এর মধ্যেই গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিনি রেফারি ও ফিফার বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য আর্জেন্টিনাকে আগাম অভিনন্দনও জানিয়ে রাখলেন মিশরের এই উইঙ্গার।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের দ্বিতীয় গোল আসে এই জিকোর পা থেকে। তবে সেটি হতে পারত দলের তৃতীয় গোল। আট মিনিট আগে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে আরেক দফায় বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনিই। কিন্তু গোলটি টেকেনি। ওই আক্রমণের শুরুতে জিকোর সতীর্থ ডিফেন্ডার মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করায় ভিএআর দেখে গোল দেননি রেফারি।
ওই গোল বাতিল করা ছাড়াও আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। রেফারিকে তীব্র আক্রমণ করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।”
তবে কোচের আগেই টিভি ক্যামেরার সামনে কান্নভেজা চোখ ও কণ্ঠে জিকো বলেছেন, “এটা অন্যায়, অন্যায়, অন্যায়। রেফারি অন্যায় করেছেন। এটা অবিচার, স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য অবিচার।”
রেফারিকেও সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করান জিকো। ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গারের মতে, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করানোর জন্যই সব আয়োজন সেরে রাখা হয়েছে।
“রেফারি মোটেও ভালো ছিলেন না। শুরু থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরা ২-০ গোলে জিতব, এটা যেন হতেই পারে না। ক্রমাগত আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছিলেন তিনি। একটি জাতির প্রচেষ্টা তিনি নষ্ট করে দিয়েছেন।”
“এটা পাতানো টুর্নামেন্ট। মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনাকে দিয়েই দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে রাখছি। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই সবকিছুর সর্বোত্তম নিয়ন্ত্রক।”
বিশ্বকাপের মাত্র কদিন আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রেখে দ্রুতই দলের ভরসা হয়ে ওঠা জিকো দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন জিততে না পারায়। এখানেও তিনি বললেন, রেফারি তাদেরকে জিততে দেননি।
“আমরা তাদেরকে (সমর্থকদের) খুশি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও পারলাম না। তবে আল্লাহর দোহাই বলছি, ব্যাপারটি আমাদের হাতে ছিল না, ওটা ছিল রেফারির হাতে। এই টুর্নামেন্ট পাতানো, স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তা।”
পূর্বকোণ/রেহেনুমা /পারভেজ












