হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। নিজের অনাগত সন্তানকে হারানোর তীব্র ব্যক্তিগত শোক বুকে পাথর করে নেদারল্যান্ডসের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ২৭ বছর বয়সী লিভারপুল ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। মরক্কোর বিরুদ্ধে শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ডাচদের হয়ে প্রথম গোলটি করার পর মাঠেই হাঁটু গেড়ে অশ্রুসিক্ত চোখে আকাশের পানে তাকান তিনি, যা ছুঁয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়।
গত শনিবার গাকপোর সঙ্গী ও মডেল নোয়া ভ্যান ডার বিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মর্মান্তিক ছবি পোস্ট করে জানান, আগামী অক্টোবরে তাদের ঘরে আসতে যাওয়া দ্বিতীয় সন্তানটি গর্ভকালীন জটিলতার কারণে মারা গেছে। কাপড়ের ওপর ছোট একটি বোনা টুপি ও একে অপরের হাত ধরে থাকা সেই ছবির ক্যাপশনে নোয়া লেখেন, “broken hearts… আমাদের সন্তান গর্ভাবস্থায় মারা গেছে। এলিজাহ রাফায়েল গাকপো, তুমি চিরকাল আমাদের ভালোবাসায় থাকবে, চিরকাল আমাদের সন্তান হয়ে থাকবে।” এমন ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ের পরও গাকপো দলকে ছেড়ে যাননি, বরং দেশের টানে স্কোয়াডের সঙ্গেই থেকে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
এদিন ম্যাচে গাকপো যখন গোল করে ডাচদের এগিয়ে নেন, তখন ডাচ শিবিরের সব ফুটবলার গোল উদযাপনের চেয়ে তাদের এই শোকগ্রস্ত সতীর্থকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন। গাকপো মাঠে ভেঙে পড়লে অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইকসহ পুরো দল তাকে ঘিরে ধরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। ভ্যান ডাইক দীর্ঘক্ষণ গাকপোকে বুকে জড়িয়ে রেখে সান্ত্বনা দেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল গাকপোর তৃতীয় গোল।
তবে মাঠের বাইরের এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের রাতে মাঠের লড়াইয়ে ভাগ্য সহায় ছিল না নেদারল্যান্ডসের। নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে ইসা দিওপের গোলে মরক্কো সমতায় ফিরলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। ১১৩তম মিনিটে গাকপোকে তুলে নেওয়া হয়, যার ফলে টাইব্রেকারে তিনি শট নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ ব্যবধানে ডাচদের হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে মরক্কো।
পূর্বকোণ/ইবনুর

















