চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

লিঙ্গে কিংবা ধর্মে নয়, পরিচয় হোক মানুষ হিসেবে

আনিস আলমগীর

২২ জানুয়ারি, ২০২৪ | ১১:৫২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডার এবং হিজড়াদের প্রতি মানুষের যে বিরূপ আচরণ, তার জন্য আমি শুধু সাধারণ মানুষকে দায়ী করতে চাই না। কারণ এক হাতে তালি বাজে না।

 

হিজড়ারা কত হিংস্র এবং নৃশংস যারা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন তারা জানেন। এরা কাউকে খুন করতে দ্বিধা করে না। বছরখানেক আগেও এরা কাঠালবাগানে সেক্স ট্রাপে ফেলে এক ইঞ্জিনিয়ারকে হত্যা করেছে। এরা জনসম্মুখে ন্যাংটা হয়ে মানুষকে অত্যাচার করতে এক বিন্দু ভাবে না। টাকার জন্য পারে না ওরা এমন কোনো কাজ নাই, এরা অনেকে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের সদস্য।

 

থানা পুলিশ এদের কোনো বিচার করে না। তারা সমাজে যে অপরাধ করে সেটাকে ঢাকার জন্য পরিবারের বঞ্চনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। নিজেরা যদি এরা ঠিক থাকে, পরিবার এদেরকে আগলে রাখে, সম্প্রতি পরিচয় প্রকাশ পাওয়া এক কূটনীতিকের জীবন কাহিনীটা দেখেন।

 

হিজড়ারা অপরাধ করে করে এমন লাই পেয়েছে যে, অপরাধকে অপরাধ হিসেবে ভাবে না। বাংলাদেশি হিজড়াদের সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা হিজড়ারা। জোর জবরদস্তি করে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা, না দিলে পরিবারের সামনে অপমান করা নিত্য ঘটনা।

 

এখন কোনো শিশু যদি দেখে চাঁদা দিতে পারে নাই, বা দেয় নাই বলে তার বাবা কিংবা পরিবারকে হিজড়ারা অপমান করেছে, সেই শিশু হিজড়াদের সম্পর্কে ইতিবাচক হবে কি করে!

 

সরকারের উচিত হিজড়াদের এই সংঘবদ্ধ অপরাধের দিকে দৃষ্টি দেওয়া। তা না করে বইপত্রে ‘শরীফ কিভাবে শরিফা’ হল সেটা পড়ালে লাভ হবে না। মানুষ বইপত্রের বিদ্যার আগে সমাজ থেকে শিখে।

 

আরেকটা বিষয়, দুইদিন পর পর নকল নারীদেরকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া গরম করারও দরকার আছে আমি মনে করি না। ‌এক নকল নারীকে টকশোতে কথিত অপমান করার জন্য কয়েক বছর আগে তো নারী সমাজ উঠে পড়ে লেগে এক সম্মানিত আইনজীবীকে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ক’মাস আগে নর্থ সাউথেও আরেকজনকে অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে হইচই পড়ে গিয়েছিল।

 

আসুন লিঙ্গের বাইরে, ধর্মের বাইরে, আমরা মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকি। মানুষের মতো আচরণ করি। আমাদের প্রথম পরিচয় হোক লিঙ্গে কিংবা ধর্মে নয়, মানুষ হিসেবে। সমাজে অফিস আদালতে সর্বত্র লিঙ্গ সুবিধা বন্ধ হোক।

 

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট