যারা প্রচণ্ড মানসিক শক্তি দিয়ে জীবনের কঠিন সময়গুলোকে অতিক্রম করার ধৈর্য্য রাখেন তাদের দেখে কিছু মানুষ কটাক্ষ করে বলেন, বাপরে কী শক্ত !
আসলে এরা চায়- আপনি কথায় কথায় হাত পা ছড়িয়ে কাঁদবেন। আর তারা কান্নার কারণটার সাথে মশলাপাতি লাগিয়ে কষিয়ে-রসিয়ে চর্চা করতে থাকবে। মূলত এরাই প্রকাশ্যে গোপনে আপনার হেনস্তকারী। শান্তির জন্যই এদের দূরে রাখা দরকার।
সুখ-দুঃখ পরিমিত বহিঃপ্রকাশ করতে পারা একপ্রকার সাধনা। অনেক কটাক্ষের পরেও আমরা ধৈর্য্যশীল হবো। কারণ- প্রকৃতির সুখ-ব্যথা প্রকাশিত হয় শান্ত ও সুরেলাভাবে।
ধৈর্য্য জীবনযাপনের সৌন্দর্য। পবিত্র কোরআনে ধৈর্য্যধারণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ধৈর্য্য সম্পর্কে কোরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ইন্না ওয়াজাদনাহু ছাবিরা নিমাল আবদু, ইন্নাহু আউওয়াব’। অর্থ: আমি তো তাকে পেলাম ধৈর্য্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী। ‘ইন্না ফি জালিকা লাআতিল লিকুল্লি ছব্বারিন শাকুর’। অর্থ- নিশ্চয় এতে তো নিদর্শন রয়েছে প্রত্যেক পরম ধ্যৈর্য্যশীল ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য।
ধৈর্য্যের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন মজিদে আরও বলেছেন, ‘মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়,যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্য্যের উপদেশ দেয়।
অত্যন্ত সূর্যকরোজ্জ্বল দিনেও খুউব শক্তিশালী আতস কাঁচেও আগুন জ্বালাতে পারবে না যদি কাঁচটি সব সময় নাড়ানো হয়।
বস্তুত, একজন্মে পুণ্যের জ্যোতি থাকলেই ধৈর্য্য কঠিন অবস্থায় ধরা যায়।
গন্তব্য ঠিক না করেই কোন যানবাহনে উঠলে যেমন লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না।ঠিক তেমনি সুস্থ্য সুন্দর জীবনযাপনের জন্য মেশা দরকার যারা চিন্তা চেতনায় মেধা মননে দরিদ্র নয়। যারা আত্মশ্রদ্ধা অনুশীলন করে। যারা নিজ স্বভাব দোষে অন্যের ভালো কাজকেও খারাপ ভাবে দেখে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে শান্তি খোঁজেনা।
আসুন, নিজের প্রতি আশাব্যঞ্জক ও ইতিবাচক হই। যা নিজেকে আলোকিত করে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ও অন্যের উপর প্রভাব ফেলে।
সুশৃঙ্খল, সংযত জীবনের জন্য ধৈর্য্য ধারণ করি।
সৃজনাত্মক ক্ষমতা অর্জনের জন্য ধৈর্য্য ধারণ করি।
জীবনের যেসব ক্ষেত্রে বারবার হেরে যাই সেসব ক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধারণ করি।
পূর্বকোণ/এএইচ


















