চট্টগ্রাম সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

সৌদি আরবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত, গ্রেপ্তার ৫

২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৭:১৯ অপরাহ্ণ

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মোটা বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

  

সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট রবিবার বিকালে বনানী (ডিএমপি) থানার সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তাদের নিকট থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৩টি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রেজিস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা সবাই মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত। 

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শামীম (৪০), রুহুল আমিন (২৪), মো. হৃদয় হাসান (২৬), আবু রায়হান (২৯) এবং সানি মিয়া (২৫)।  সিআইডি মিডিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদী একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় আড়াই হাজার রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে  কথা বলা হয়। বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের এক সদস্য ভুক্তভোগীকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অবস্থিত অফিসে যোগাযোগ করতে বলে। পরবর্তীকালে ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় একটি কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিদেশ যাওয়ার আগেই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্যাংক ও নগদে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে তাকে সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বাদী বনানী (ডিএমপি) থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। 

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রটি একইভাবে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে গ্রহণ করে আত্মসাৎ করে। এছাড়াও বিদেশে কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় প্রস্তাব ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ ও নিজেদের হেফাজতে রেখে আসামিরা মানবপাচার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। 

 

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। মামলাটির তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  

 

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। 

 

এছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হচ্ছে। 

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট