চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে কঙ্গো বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণা ডব্লিউএইচওর

ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে কঙ্গো- বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ডব্লিউএইচওর

অনলাইন ডেস্ক

২৬ মে, ২০২৬ | ৪:০৯ অপরাহ্ণ

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটি বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ডব্লিউএইচও বলেছে, বুনদিবুগিও ধরনের ভাইরাসের কারণে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার অবস্থায় পৌঁছায়নি। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে এমন দেশগুলোয় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে বলেছে, গত শনিবার পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে অন্তত ৮০ জনের সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সেখানে এখন পর্যন্ত পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া ইবোলার ৮ টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৬ জন। ইতুরি প্রদেশের অন্তত তিনটি অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বুনিয়া, রামওয়ারা ও মংগবালু এলাকা। গত শুক্রবার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাবে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, তারা বড় পরিসরে জরুরি সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটি দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে।

ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা বলেছেন, ‘বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলার কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

এই ধরনের মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।’
২০০৭ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ধরনের ইবোলায় প্রতিবেশী উগান্ডাতেও একজন কঙ্গোলিজ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে শনিবার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে শুধু ‘জাইর’ ধরনের ইবোলার টিকা রয়েছে। ১৯৭৬ সালে শনাক্ত হওয়া এই ধরনটির মৃত্যুহার ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শুক্রবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত করেন। অঞ্চলটি উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তঘেঁষা।

স্থানীয় নাগরিক প্রতিনিধি আইজ্যাক নিয়াকুলিন্দা বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে মানুষকে মরতে দেখছি। আক্রান্তদের আলাদা করে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা বাড়িতেই মারা যাচ্ছে, আর পরিবারের সদস্যরাই মরদেহ স্পর্শ করছেন।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাম্বা জানান, প্রথম শনাক্ত রোগী ছিলেন একজন নার্স। তিনি গত ২৪ এপ্রিল ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইবোলাসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আসেন।

 

পূর্বকোণ/আদর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট