চীনের উত্তরাঞ্চলে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও কয়েকজন নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
এএফপি বলছে, এ ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে শানসি প্রদেশের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় খনির ভেতরে ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের বেশিরভাগকে আজ (শনিবার) সকাল নাগাদ উদ্ধার করে ওপরে আনা হয়।
তবে পরে সিনহুয়া জানায়, এ ঘটনায় অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ থাকা নয়জনকে খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারীরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহতদের চিকিৎসায় ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শি- বলেন, ‘সব অঞ্চল ও বিভাগকে এ দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং বড় ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমদিকে জানায়, খনিতে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা বিপজ্জনক সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন নিহত ও বহু শ্রমিক আটকা পড়েছেন। বিষাক্ত ও গন্ধহীন এ গ্যাস অত্যন্ত প্রাণঘাতী।
খনির ভেতরে আটকে পড়াদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।
চীনের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র প্রদেশ শানসি দেশটির কয়লা খনিশিল্পের অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে খনি নিরাপত্তার উন্নতি হলেও, দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অস্পষ্ট নিয়মকানুনের কারণে এখনও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
২০২৩ সালে উত্তরাঞ্চলীয় ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের একটি উন্মুক্ত কয়লাখনি ধসের কারণে ৫৩ জন নিহত হন। আর ২০০৯ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে বিস্ফোরণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়লা ব্যবহারকারী দেশ এবং সর্বোচ্চ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী রাষ্ট্র। তবে দেশটি দ্রুতসময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
পূর্বকোণ/আদর
















